জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচে একটি জিনতাত্ত্বিক পরীক্ষণের ফলাফল দেখানো হলো-

  1. ক)

    নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কী?

    (1)
  2. খ)

    সকল মেরুদণ্ডী কর্ডেট সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের F1F_1 ও F2F_2 জনুর ফলাফল পানেটের চেকার বোর্ডের মাধ্যমে দেখাও ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবদেহে যেসব অঙ্গ নিষ্ক্রিয়, ক্ষুদ্র ও অকার্যকর অবস্থায় থাকে কিন্তু তাদের পূর্বপুরুষদের দেহে সম্পূর্ণ বিকশিত ও সক্রিয় ছিল, সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (Vestigial organ) বলে। যেমন- মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের জীবনের কোনো না কোনো দশায় (ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন) পৃষ্ঠ-মধ্যরেখা বরাবর স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড উপস্থিত থাকে।

    কর্ডাটা পর্বের মেরুদণ্ডী (Vertebrata) উপপর্বের প্রাণীদের ক্ষেত্রে ভ্রূণাবস্থার নটোকর্ডটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। কিন্তু কর্ডাটা পর্বের অপর দুটি উপপর্ব যেমন—ইউরোকর্ডাটা ও সেফালোকর্ডাটার প্রাণীদের ক্ষেত্রে নটোকর্ড কখনোই মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয় না।

    যেহেতু সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণে নটোকর্ড থাকে, তাই তারা সকলেই কর্ডেট। কিন্তু সকল কর্ডেটের নটোকর্ড মেরুদণ্ডে পরিণত হয় না বিধায় সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত ফলাফলটি ইনহিবিটরি জিন বা প্রকট এপিস্ট্যাসিসের (অনুপাত ১৩:৩) উদাহরণ।

    ধরি,
    পালক রঙিন হওয়ার জন্য দায়ী প্রকট জিন = C
    পালক সাদা হওয়ার জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = c
    রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধাদানকারী (ইনহিবিটরি) প্রকট জিন = I
    বাধা না দেওয়ার জন্য প্রচ্ছন্ন জিন = i

    সাদা লেগহর্নের জিনোটাইপ = CCII (এখানে C জিন থাকা সত্ত্বেও I জিনের উপস্থিতিতে পালক রঙিন হতে পারে না, ফলে সাদা হয়)
    সাদা ওয়াইনডটসের জিনোটাইপ = ccii (এখানে রঙিন করার জিন C অনুপস্থিত, তাই সাদা হয়)

    পিতামাতা (P1): সাদা লেগহর্ন (পুরুষ) × সাদা ওয়াইনডটস (স্ত্রী)
    ফিনোটাইপ: সাদা × সাদা
    জিনোটাইপ: CCII × ccii
    গ্যামেট: CI এবং ci

    F1 জনুর জিনোটাইপ: CcIi
    F1 জনুর ফিনোটাইপ: সকল মোরগ-মুরগি সাদা (কারণ ইনহিবিটরি জিন 'I' উপস্থিত থাকায় 'C' জিন রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না)।

    F1 জনুর সদস্যদের মধ্যে সংকরায়ণ (P2): CcIi × CcIi
    গ্যামেট: CI, Ci, cI, ci

    F2 জনুর পানেট চেকার বোর্ড:

    গ্যামেট (♀/♂)CICicIci
    CICCII (সাদা)CCIi (সাদা)CcII (সাদা)CcIi (সাদা)
    CiCCIi (সাদা)CCii (রঙিন)CcIi (সাদা)Ccii (রঙিন)
    cICcII (সাদা)CcIi (সাদা)ccII (সাদা)ccIi (সাদা)
    ciCcIi (সাদা)Ccii (রঙিন)ccIi (সাদা)ccii (সাদা)

    ফলাফল:
    যেসব জীবে অন্তত একটি 'C' জিন আছে কিন্তু কোনো প্রকট 'I' জিন নেই (অর্থাৎ C-ii জিনোটাইপ), কেবল তারাই রঙিন হয়। এখানে এমন জিনোটাইপ হলো: CCii (১টি) এবং Ccii (২টি) = মোট ৩টি রঙিন।
    অবশিষ্ট জিনোটাইপযুক্ত প্রাণীদের মধ্যে হয় 'I' উপস্থিত অথবা 'C' অনুপস্থিত, ফলে তারা সাদা হয় (মোট ১৩টি)।

    অতএব, F2 জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত = সাদা : রঙিন = ১৩ : ৩।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন সঞ্চারণের সূত্রানুযায়ী, দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ হওয়ার কথা। কিন্তু উদ্দীপকের ঘটনাটিতে অনুপাত পাওয়া গেছে ১৩:৩, যা একটি ব্যতিক্রম। নিচে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উদ্দীপকের ঘটনাটি হলো ইনহিবিটরি জিন বা প্রকট এপিস্ট্যাসিস। যখন একটি জিন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা প্রদান করে, তখন সেই বাধাদানকারী জিনটিকে ইনহিবিটরি বা এপিস্ট্যাটিক জিন বলা হয়।

    ২. এখানে পালক রঙিন করার জন্য দায়ী প্রকট জিন 'C' এবং সাদা পালকের জন্য প্রচ্ছন্ন অ্যালিল 'c'। অন্যদিকে অপর লোকাসে অবস্থিত প্রকট ইনহিবিটরি জিন 'I' জিন 'C'-এর প্রকাশকে বাধা দেয়। এর প্রচ্ছন্ন অ্যালিল 'i' কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।

    ৩. F1 জনুতে জিনোটাইপ হয় 'CcIi'। এখানে রঙিন বৈশিষ্ট্যের জিন 'C' উপস্থিত থাকলেও অপর জোড়ার প্রকট জিন 'I' বাধা প্রদান করায় পাখিগুলো রঙিন না হয়ে সাদা হয়।

    ৪. F2 জনুতে স্বাধীন সঞ্চারণের স্বাভাবিক ৯:৩:৩:১ অনুপাতের ক্ষেত্রে জিনোটাইপের বিন্যাস হয়:

    • C-I- (৯টি) : এখানে C ও I উভয়ই থাকায় I জিনের বাধায় পালক সাদা হয় (৯টি সাদা)।
    • C-ii (৩টি) : এখানে রঙিন করার জিন C আছে কিন্তু বাধাদানকারী জিন I নেই (প্রচ্ছন্ন ii), ফলে এগুলো রঙিন হয় (৩টি রঙিন)।
    • ccI- (৩টি) : এখানে রঙিন করার জিন C-ই নেই, ফলে স্বভাবতই সাদা হয় (৩টি সাদা)।
    • ccii (১টি) : এখানেও রঙিন করার জিন নেই, ফলে সাদা হয় (১টি সাদা)।

    ফলে F2 জনুর ফিনোটাইপ দাঁড়ায় (৯ + ৩ + ১) = ১৩টি সাদা এবং ৩টি রঙিন, অর্থাৎ ১৩:৩।

    সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, একটি নন-অ্যালিলিক জিনের ওপর অপর একটি জিনের বাধা প্রদানের (এপিস্ট্যাসিস) কারণে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের স্বাভাবিক ৯:৩:৩:১ অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ১৩:৩ হয়েছে। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবেই মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি ব্যতিক্রম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন