অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. ‘ক’ একজন অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা । তিনি ৩২ লক্ষ টাকা পেনশন পেয়েছেন। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে । তিনি ২ লক্ষ টাকা ব্যাংকে রাখলেন এবং অবশিষ্ট টাকার মধ্যে ২০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ১০ লক্ষ টাকায় বিভিন্ন কোম্পানির কিছু শেয়ার ক্রয় করলেন।

  1. ক)

    বন্ড কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রাইমারি শেয়ারে ঝুঁকি কম - ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মি.‘ক’ কোন খাত থেকে নির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত মুনাফা পাবেন ?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কোন বিনিয়োগ খাত হতে মুনাফা পাওয়া অনিশ্চিত কিন্তু সব থেকে অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভবনা ও বেশি - বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বন্ড হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দলিল, যার মাধ্যমে সরকার বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মেয়াদ ও নির্দিষ্ট সুদের হারে বিনিয়োগকারীদের নিকট থেকে তহবিল সংগ্রহ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাইমারি শেয়ারে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম, কারণ এটি কোম্পানি কর্তৃক সরাসরি অভিহিত মূল্যে (Face Value) বা নির্ধারিত মূল্যে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (IPO) মাধ্যমে বাজারে ইস্যু করা হয়। সেকেন্ডারি বাজারের মতো এখানে প্রতিদিনের শেয়ারের মূল্যের ব্যাপক ওঠানামা বা ফাটকা কারবারের প্রভাব থাকে না। তাছাড়া কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থার (যেমন- BSEC) অনুমোদন ও নিরীক্ষার পরই কেবল শেয়ার ইস্যু করা যায় বলে মূলধন হারানোর প্রাথমিক ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. ‘ক’ তাঁর সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকৃত ২০ লক্ষ টাকা এবং ব্যাংকে জমাকৃত ২ লক্ষ টাকা (বিশেষত সঞ্চয়পত্র) থেকে নির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত মুনাফা পাবেন।

    জাতীয় সঞ্চয়পত্র হলো সরকারি নিশ্চয়তাযুক্ত একটি নিরাপদ বিনিয়োগ খাত। সরকার নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে নির্দিষ্ট হারে সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদের অর্থ বা মুনাফা পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য থাকে। অর্থনৈতিক মন্দা বা বাজারের কোনো ওঠানামায় এই আয়ের কোনো হেরফের হয় না এবং মূলধন হারানোর কোনো ঝুঁকি থাকে না। একইভাবে ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের বিপরীতেও নির্দিষ্ট হারে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়। উদ্দীপকে তিনি ২০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছেন, যা একটি ঝুঁকিমুক্ত আর্থিক সম্পদ। সুতরাং, মি. ‘ক’ সঞ্চয়পত্র খাত থেকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, নির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত মুনাফা পাবেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিনিয়োগ খাতগুলোর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির ‘শেয়ার’ ক্রয়ের খাতটি হতে মুনাফা পাওয়া অনিশ্চিত হলেও সব থেকে অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনাও সবচেয়ে বেশি। নিচে এর যৌক্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    শেয়ার হলো কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একক। সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারী কোম্পানির মালিকানার অংশীদার হন। এ খাতের মুনাফা প্রাপ্তি মূলত দুটি উপায়ে হয়—নিয়মিত লভ্যাংশ (Dividend) এবং মূলধনি মুনাফা (Capital Gain)।

    ১. আয়ের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি: শেয়ারের আয়ের হার পূর্বনির্ধারিত নয়। কোম্পানি লাভজনকভাবে পরিচালিত হলে লভ্যাংশ প্রদান করে, কিন্তু লোকসান হলে কোনো লভ্যাংশ নাও দিতে পারে। এমনকি কোম্পানি অবসায়নে গেলে বিনিয়োগকৃত মূলধন ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাও সবার শেষে থাকে। এছাড়া সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ারের দাম হ্রাস পেলে বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

    ২. অধিক মুনাফার সম্ভাবনা: অন্যদিকে, ব্যবসা বা কোম্পানি যদি ব্যাপক প্রসার লাভ করে ও আশাতীত মুনাফা অর্জন করে, তবে শেয়ারহোল্ডাররা উচ্চহারে লভ্যাংশ পান। এছাড়া শেয়ারের বাজারদর বহু গুণ বৃদ্ধি পেলে তা বিক্রি করে বিশাল অঙ্কের মূলধনি মুনাফা অর্জন করা সম্ভব, যা ব্যাংক আমানত বা সঞ্চয়পত্রের নির্দিষ্ট আয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি হতে পারে।

    অর্থনীতির মূল নীতি হলো ‘অধিক ঝুঁকি, অধিক লাভ’ (High Risk, High Return)। তাই মি. ‘ক’-এর ১০ লক্ষ টাকার শেয়ার বিনিয়োগ খাতটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তা থেকেই সর্বাধিক মুনাফা বা লাভ অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন