জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
‘G’ ও ‘H’ দুটি জীব প্রযুক্তি এদের মধ্যে ‘G’ উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম টিস্যু থেকে সমগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ তৈরি করলেও ‘H’ এর মাধ্যমে অন্য জীবের জিন সংযুক্ত করে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব তৈরি করে থাকে।
- ক)(1)
সাইব্রিড কাকে বলে?
- খ)(2)
PCR একটি In-vitro পদ্ধতি — ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ‘G’ প্রযুক্তিটি চিত্রসহ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ‘H’ প্রযুক্তিটি কৃষিক্ষেত্রে সাফল্যের দাবি রাখে— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্টের সংমিশ্রণ বা ফিউশনের মাধ্যমে সৃষ্ট সংকর কোষ থেকে পুনরুৎপাদিত উদ্ভিদকে সাইব্রিড (Cybrid বা Cytoplasmic hybrid) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
PCR (Polymerase Chain Reaction) হলো এমন একটি আধুনিক আণবিক জীববৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি যার মাধ্যমে জীবদেহের বাইরে অর্থাৎ কাঁচের টেস্টটিউব বা নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পাত্রের মধ্যে কৃত্রিম পরিবেশে (In-vitro) নির্দিষ্ট এনজাইম (ট্যাক পলিমারেজ), প্রাইমার ও ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিওটাইডের সহায়তায় স্বল্প সময়ে DNA-এর নির্দিষ্ট অংশের লক্ষ লক্ষ কপি তৈরি করা যায়। যেহেতু জীবন্ত কোষের অভ্যন্তরে না ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ল্যাবরেটরি পরিবেশে কৃত্রিমভাবে এটি সম্পন্ন হয়, তাই PCR একটি In-vitro পদ্ধতি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'G' প্রযুক্তিটি হলো উদ্ভিদ টিস্যু কালচার (Micropropagation)।
টিস্যু কালচার প্রযুক্তির প্রধান ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. এক্সপ্ল্যান্ট নির্বাচন: উপযুক্ত ও সুস্থ মাতৃউদ্ভিদ থেকে বিভাজনক্ষম টিস্যু যেমন- শীর্ষ মুকুল বা কাক্ষিক মুকুল এক্সপ্ল্যান্ট হিসেবে পৃথক করা হয়।
২. কালচার মিডিয়াম প্রস্তুতকরণ: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাক্রো ও মাইক্রো উপাদান, ভিটামিন, সুক্রোজ, সুনির্দিষ্ট হরমোন (অক্সিন ও সাইটোকাইনিন) ও অ্যাগার মিশিয়ে উপযুক্ত পুষ্টি মাধ্যম তৈরি করে কাঁচের পাত্রে নেওয়া হয়।
৩. নির্বীজকরণ বা অটোক্লেভিং: পুষ্টি মাধ্যম ও পাত্রকে অটোক্লেভ মেশিনে ১২১° সে. তাপমাত্রায় ১৫ পাউন্ড/বর্গইঞ্চি চাপে ২০ মিনিট রেখে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৪. মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট স্থাপন (ইনোকুলেশন): জীবাণুমুক্ত ল্যামিনার এয়ার ফ্লো চেম্বারে এক্সপ্ল্যান্টটি কালচার মিডিয়ামে স্থাপন করা হয়।
৫. ক্যালাস সৃষ্টি ও অঙ্গের বিকাশ: নিয়ন্ত্রিত আলো ও তাপমাত্রায় বৃদ্ধির ফলে টিস্যু থেকে অনিয়মিত অবিভাজিত কোষপুঞ্জ বা ক্যালাস তৈরি হয়। পরবর্তীতে হরমোনের তারতম্যের মাধ্যমে ক্যালাস থেকে অগণিত অনুচারা (Micro-shoots) সৃষ্টি হয়।
৬. মূল উৎপাদন ও চারা রোপণ: অনুচারাগুলো কেটে মূল উৎপাদক মিডিয়ামে স্থাপন করে মূল সৃষ্টি করানো হয়। পরে পর্যায়ক্রমে মাটির টবে শক্তপোক্ত (hardening) করে মাঠে রোপণ করা হয়।[চিত্রের বিবরণ: ১. এক্সপ্ল্যান্ট সংগ্রহ → ২. পুষ্টি মাধ্যমে স্থাপন → ৩. ক্যালাস ও মুকুল সৃষ্টি → ৪. চারা পৃথকীকরণ ও মূল সৃষ্টি → ৫. টবে চারা স্থানান্তর]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'H' প্রযুক্তিটি হলো রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এই প্রযুক্তি অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কীটপতঙ্গ ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন: ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bt) ব্যাকটেরিয়ার টক্সিন উৎপাদনকারী জিন ফসলে স্থানান্তর করে Bt-তুলা, Bt-বেগুন ইত্যাদি কীট-প্রতিরোধী জাত তৈরি করা হয়েছে, যা কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়েছে।
২. আগাছানাশক সহনশীল জাত: রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে রাউন্ডআপ রেডি সয়াবিন ও ভুট্টার মতো আগাছানাশক সহনশীল জাত তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, ফলে ফসলের ক্ষতি না করে কেবল আগাছা দমন করা যায়।
৩. প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীলতা: খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা প্রতিরোধী জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশে চাষ উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।
৪. পুষ্টিমানের উন্নয়ন: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ধানে বিটা-ক্যারোটিন তৈরির জিন সংযোজন করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ 'গোল্ডেন রাইস' উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশের অন্ধত্ব ও অপুষ্টি দূরীকরণে সহায়ক।
৫. গুণগত মান ও সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি: ফ্লেভার স্যাভর (Flavr Savr) টমেটোতে পলিগ্যালাক্টুরোনেজ এনজাইমের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে এর পচন বিলম্বিত ও শেলফ-লাইফ বাড়ানো হয়েছে।সুতরাং, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপায়ে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে 'H' প্রযুক্তি কৃষিক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই বিরাট সাফল্যের দাবি রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও