উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

চামড়া শিল্পে বাংলাদেশ উনড়বত হলেও দিন দিন চামড়া রপ্তানি হ্রাস পাচ্ছে। প্রতি ১ বর্গফুট চামড়া রপ্তানি করে ১ ডলার থেকে ১.৫ ডলার পাওয়া যায়। বর্তমানে সেই পরিমাণ চামড়া দিয়ে জুতা বা চামড়া জাতীয় পণ্য রপ্তানি করে পাওয়া যায় ১০থেকে ১৫ ডলার যা চামড়া রপ্তানির চাইতে ৮০% থেকে ৯০% বেশি। বাংলাদেশের হাজার হাজার দক্ষ শ্রমিক বিভিনড়ব কারখানায় জুতা ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত। যা রপ্তানি হচ্ছে জাপান, জার্মানি, কোরিয়াসহ অনেক দেশে।

  1. ক)

    নগদ মূল্য ছাড় কী?

    (1)
  2. খ)

    “ব্যয়যোগ্য মূল্য নির্ধারণ, মূল্য নির্ধারণের সহজ পদ্ধতি” ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জাপান, জার্মানি, কোরিয়া কোন ধরনের পণ্য আমদানি করে থাকে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    চামড়া রপ্তানির চেয়ে জুতা বা চামড়া জাতীয় পণ্য রপ্তানি করলে পূর্বের চেয়ে বহুগুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধারে বিক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য ক্রেতাকে যে আর্থিক ছাড় দেওয়া হয়, তাকে নগদ বাট্টা বা নগদ মূল্য ছাড় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যয়যোগ মূল্য নির্ধারণ (Cost-plus pricing) পদ্ধতিতে পণ্যের মোট একক প্রতি খরচের (স্থির ব্যয় ও পরিবর্তনশীল ব্যয়) সাথে একটি নির্দিষ্ট শতকরা হারে প্রত্যাশিত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

    এ পদ্ধতিতে জটিল কোনো বাজার চাহিদা বা প্রতিযোগীদের প্রতিক্রিয়ার হিসাব করতে হয় না। উৎপাদনের মোট ব্যয় জানা থাকলে সহজেই একটি নির্দিষ্ট মুনাফার মার্জিন যোগ করে মূল্য স্থির করা যায়। হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত সহজ ও বোধগম্য হওয়ায় এটি মূল্য নির্ধারণের সবচেয়ে সরল ও প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাপান, জার্মানি, কোরিয়া মূলত ভোগপণ্য (সুনির্দিষ্টভাবে শৌখিন বা সুবিধাজনক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত জুতা ও চামড়াজাত ফিনিশড পণ্য) আমদানি করে থাকে।

    যেসব পণ্য চূড়ান্ত ভোক্তারা তাদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভোগের জন্য সরাসরি ক্রয় করে, সেগুলোকে ভোগপণ্য বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ১ বর্গফুট কাঁচা চামড়া রপ্তানি না করে তা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে জুতা বা বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। জাপান, জার্মানি ও কোরিয়া সরাসরি কারখানা থেকে এসব চূড়ান্ত চামড়াজাত পণ্য ও জুতা আমদানি করছে, যা তাদের দেশের ভোক্তারা সরাসরি ব্যবহার বা ভোগ করে থাকেন। সুতরাং, আমদানিকৃত এসব জুতা ও চামড়াজাত সামগ্রী ভোগপণ্যের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চামড়া রপ্তানির চেয়ে জুতা বা চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করলে পূর্বের চেয়ে বহুগুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করলে পণ্যের উপযোগ ও মূল্যসংযোজন (Value addition) বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। কাঁচা বা আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি করলে আন্তর্জাতিক বাজারে তার দাম কম পাওয়া যায়, কিন্তু আধুনিক ডিজাইনের জুতা ও চামড়াজাত পণ্যে রূপান্তর করলে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়।

    উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রতি ১ বর্গফুট চামড়া রপ্তানি করে মাত্র ১ থেকে ১.৫ ডলার পাওয়া যায়। অথচ একই পরিমাণ চামড়া দিয়ে উৎপাদিত জুতা বা অন্যান্য চামড়াজাত সামগ্রী রপ্তানি করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১০ থেকে ১৫ ডলার আয় করা সম্ভব, যা সাধারণ চামড়া রপ্তানির আয়ের তুলনায় প্রায় ৮০% থেকে ৯০% বেশি। এছাড়া দেশে রয়েছে হাজার হাজার দক্ষ শ্রমিক, যা চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন খরচ কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করে।

    অতএব, কাঁচা চামড়া রপ্তানি না করে দেশে জুতা ও চামড়াজাত ফিনিশড পণ্য তৈরি করে উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি করলে দেশের মূল্যসংযোজন বহুগুণ বাড়ে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন