যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিয়তির ছোট ভাই নিপুণ খেতে চায় না। তাই তার মা প্রায়ই বিভিন্ন কিছুর ভয় দেখিয়ে খাওয়ান। একদিন তিনি নিপুণকে বললেন- “তাড়াতাড়ি খাও সোনা, না খেলে ভূত এসে খেয়ে ফেলবে।"নিয়তির বাবা কিছু আপেল কিনে আনলেন। আপেল ফরমালিনযুক্ত কি না তা দেখার জন্যে ২ সপ্তাহ রেখে দিলেন। দেখলেন ২ সপ্তাহ পরও আপেলে একটুও পঁচন ধরেনি। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আপেলগুলো ফরমালিনযুক্ত।
- ক)(1)
বাস্তব কারণ কী?
- খ)(2)
বৈধ প্রকল্পকে ঘটনা ব্যাখ্যার জন্য পর্যাপ্ত হতে হয় কেন?
- গ)(3)
নিয়তির মায়ের কথায় প্রকল্পের কোন শর্তটির লঙ্ঘন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'নিয়তির বাবার কর্মকাণ্ডে প্রকল্পের চারটি স্তরই পরিলক্ষিত হয়েছে'- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাস্তব কারণ (vera causa) হলো এমন একটি নিশ্চিত ও বিদ্যমান কারণ, যার অস্তিত্ব ও কার্যকারিতা বাস্তবে পর্যবেক্ষণ বা প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো অজ্ঞাত বা অস্পষ্ট ঘটনার পেছনের কারণ বা নিয়মকে সুষ্ঠুভাবে ব্যাখ্যা করা। যদি কোনো প্রকল্প আলোচ্য ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে অপারগ হয়, তবে তা অনুকল্প হিসেবে ব্যর্থ হয়। তাই কোনো প্রকল্পকে বৈজ্ঞানিক দিক থেকে বৈধ হতে হলে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটির সকল প্রাসঙ্গিক দিক ব্যাখ্যার উপযোগী ও পর্যাপ্ত হতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নিয়তির মায়ের কথায় প্রকল্পের 'বাস্তব কারণ' (Vera Causa) বা 'স্ব-বিরোধহীনতা ও বাস্তব অস্তিত্বশীল হওয়ার শর্ত'-এর লঙ্ঘন ঘটেছে।
যুক্তিবিদ্যায় একটি বৈধ প্রকল্পের অন্যতম অপরিহার্য শর্ত হলো—যে ধারণাকে কারণ হিসেবে কল্পনা করা হবে, তার বাস্তব অস্তিত্ব থাকতে হবে অথবা তা বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। কাল্পনিক, অলীক বা অবাস্তব কোনো কিছু দিয়ে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না।
উদ্দীপকে নিয়তির মা ছোট ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য 'ভূত এসে খেয়ে ফেলবে' বলে ভীতি প্রদর্শন করেন। 'ভূত' একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও অবাস্তব সত্তা, যার কোনো বাস্তবিক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাই কোনো ঘটনা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বাস্তবতাহীন ভূতের কল্পনা করায় এখানে প্রকল্পের বাস্তব কারণের শর্তটি লঙ্ঘিত হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'নিয়তির বাবার কর্মকাণ্ডে প্রকল্পের চারটি স্তরই পরিলক্ষিত হয়েছে'—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
একটি পূর্ণাঙ্গ বা বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের প্রধান চারটি স্তর রয়েছে: ১. নিরীক্ষণ (Observation), ২. প্রাথমিক আনুমানিক ধারণা গঠন (Hypothesis formulation), ৩. অবরোহ বা সিদ্ধান্ত নিগমন (Deductive verification), এবং ৪. যাচাইকরণ বা পরীক্ষণ (Verification)।
উদ্দীপকে দেখা যায়:
১. নিরীক্ষণ: নিয়তির বাবা বাজার থেকে কিছু আপেল কিনে এনে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং আপেলগুলো ফরমালিনযুক্ত কি না তা যাচাই করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন।
২. আনুমানিক ধারণা গঠন: তিনি ধারণা করেন যে আপেলগুলোতে ফরমালিন থাকতে পারে।
৩. অবরোহ বা ফলাফল নিগমন: তিনি যুক্তি অনুযায়ী ভাবলেন, যদি আপেলগুলোতে সত্যিই ফরমালিন থাকে, তবে তা দীর্ঘ সময় ধরে নষ্ট বা পচে যাবে না।
৪. যাচাইকরণ: তিনি আপেলগুলো ২ সপ্তাহ রেখে দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে যাচাই করলেন এবং দেখলেন যে আপেলগুলোতে কোনো পচন ধরেনি। এর ফলে তাঁর প্রাথমিক প্রকল্পটির সত্যতা বাস্তবে সমর্থিত ও প্রমাণিত হলো এবং তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন।
সুতরাং, দেখা যায় নিয়তির বাবার পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে নিরীক্ষণ, প্রকল্প গঠন, সিদ্ধান্ত নিগমন ও যাচাইকরণ—এই চারটি স্তরই সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অতএব, প্রদত্ত উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও