জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মেটাকাইনেসিস কী?

    (1)
  2. খ)

    ইন্টারফেজ বলতে কী বোব?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'K' উপদশাটি চিত্রসহ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জীববৈচিত্র্য সৃষ্টিতে উদ্দীপকের কোষ বিভাজনের গুরুত্ব রিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলোর স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে মেটাকাইনেসিস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি কোষের পরপর দুটি বিভাজনের মধ্যবর্তী প্রস্তুতিমূলক পর্যায়কে ইন্টারফেজ (Interphase) বলা হয়। একটি কোষচক্রের প্রায় ৯০-৯৫% সময় এই দশায় ব্যয় হয়। এ সময় কোষে পরবর্তী বিভাজনের প্রয়োজনীয় ডিএনএ রেপ্লিকেশন, আরএনএ ও প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় এটিপি (ATP) তৈরি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রানুযায়ী i হলো লেপ্টোটিন এবং j হলো জাইগোটিন উপদশা। সুতরাং, এর পরবর্তী 'K' উপদশাটি হলো মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ এর 'প্যাকাইটিন' (Pachytene) উপদশা।

    প্যাকাইটিন উপদশার বৈশিষ্ট্য ও বর্ণনা:
    ১. টেট্রাড সৃষ্টি: প্রতিটি হোমোলোগাস ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত অনুদৈর্ঘ্যে দুটি করে ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয়। ফলে প্রতিটি বাইভ্যালেন্টে চারটি করে ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয়, যাকে টেট্রাড (Tetrad) বলে।
    ২. নন-সিস্টার ক্রোমাটিড: একই ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিডকে সিস্টার ক্রোমাটিড এবং একই জোড়ার ভিন্ন ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।
    ৩. কায়াজমা গঠন: দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে এক বা একাধিক স্থানে 'X' আকৃতির সংযোগ বা কায়াজমা (Chiasma) তৈরি হয়।
    ৪. ক্রসিং ওভার: কায়াজমা অংশে এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইমের প্রভাবে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড ভেঙে যায় এবং লাইগেজ এনজাইমের প্রভাবে পুনরায় বিপরীত অংশের সাথে জুড়ে যায়। এর মাধ্যমে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়ের মধ্যে অংশের পারস্পরিক বিনিময় ঘটে, যাকে ক্রসিং ওভার বলে।
    (পরীক্ষায় প্যাকাইটিন উপদশার চিত্র—বাইভ্যালেন্ট, টেট্রাড ও কায়াজমা চিহ্নিত করে আঁকতে হবে।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত কোষ বিভাজনটি হলো মায়োসিস কোষ বিভাজন। জীবজগতে বৈচিত্র্য ও নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টিতে মায়োসিস কোষ বিভাজনের ভূমিকা অপরিসীম, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ক্রসিং ওভার ও জিনের পুনর্বিন্যাস: মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ এর প্যাকাইটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় বা ক্রসিং ওভার ঘটে। এর ফলে ক্রোমোজোমে অবস্থিত অ্যালিল তথা জিনের নতুন বিন্যাস (Genetic Recombination) ঘটে।
    ২. গ্যামেট সৃষ্টিতে ভিন্নতা: জিনের পুনর্বিন্যাসের কারণে উৎপন্ন প্রতিটি গ্যামেট জিনগতভাবে একে অপরের চেয়ে পৃথক ও বৈচিত্র্যময় হয়।
    ৩. প্রকরণ সৃষ্টি: যৌন জননের সময় দুটি জিনগতভাবে ভিন্ন গ্যামেটের মিলনের ফলে সৃষ্ট জাইগোটে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে, যা জীবের মধ্যে প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি করে।
    ৪. প্রজাতির স্বতন্ত্রতা ও বিবর্তন: প্রকরণই জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি। পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এই বৈচিত্র্য জীবকে সহায়তা করে এবং কালক্রমে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি তথা জৈব বিবর্তনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

    অতএব, মায়োসিস বিভাজনে সংঘটিত ক্রসিং ওভার ও জিনের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি ও সংরক্ষিত হচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন