পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
গিয়াস মিয়া লতার নদীর পাশে ৬০ বিঘা জমি ক্রয় করে ৩০ বিঘা জমিতে ইটের ভাটা করেন। বাকি ৩০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। অধিক ফলনের আশায় তিনি জমিতে প্রচুর পরিমাণে ইউরিয়া সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। ইটের ভাটার বর্জ্য পদার্থ, সার ও কীটনাশক বৃষ্টির পানির সাথে ধুয়ে লতার নদীতে মিশেছে।
- ক)(1)
VGF-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কীভাবে সহায়ক? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে বিষয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে সেটির কারণগুলো আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত বিষয় মোকাবেলায় কী ধরনের সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
VGF এর পূর্ণরূপ Vulnerable Group Feeding (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং)।
- খ)
পরিবার পরিকল্পনা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, কারণ এর মাধ্যমে দম্পতিরা সুপরিকল্পিতভাবে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার, দুই সন্তানের মধ্যে ব্যবধান রাখা ও কম সন্তান নেওয়ার ফলে জন্মহার কমে। এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে থাকে, ছোট পরিবার সুখী হয় এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
- গ)
উদ্দীপকে পরিবেশ দূষণের (বিশেষ করে পানি ও মাটি দূষণের) ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
১. শিল্পবর্জ্য: গিয়াস মিয়ার ইটের ভাটার বর্জ্য ও ধোঁয়া বাতাস, মাটি ও পানিকে দূষিত করে।
২. রাসায়নিক সার ও কীটনাশক: অধিক ফলনের আশায় প্রচুর ইউরিয়া সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় তা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে এবং মাটির উর্বরতা কমাচ্ছে।
৩. অন্যান্য কারণ: বৃক্ষনিধন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সচেতনতার অভাব এবং পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াও এর কারণ। - ঘ)
উদ্দীপকের পরিবেশ দূষণ মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের উদ্যোগই প্রয়োজন।
সরকারি উদ্যোগ:
১. পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে নদীর পাড়ে ইটভাটার মতো দূষণকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ ও জরিমানা করা।
২. কৃষকদের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিমিত ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।
৩. পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা।বেসরকারি উদ্যোগ:
১. এনজিও ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।
২. বৃক্ষরোপণ ও নদী পরিষ্কারের কাজে স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ বাড়ানো।
৩. গিয়াস মিয়ার মতো ব্যবসায়ীদের বর্জ্য শোধন করে তবেই নিষ্কাশন করতে এগিয়ে আসা।সুতরাং, সরকারি আইন-প্রয়োগ ও বেসরকারি সচেতনতা মিলে কাজ করলে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও