হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

আবির কোন দেব-দেবীর পূজা করে না। তবে ঈশ্বরের প্রতি রয়েছে তার অগাধ ভক্তি। তিনি চিন্তা করেন দেব-দেবীরা যেহেতু ঈশ্বরেরই এক একটি শক্তির প্রকাশ তাই দেব-দেবীর পূজা না করে শুধুমাত্র ঈশ্বরের পূজা করাই উত্তম। কিন্তু সলিল মা কালীর আরাধনা করে। মা কালীই তার ধ্যান জ্ঞান। মা কালীকে ঘিরেই তার পরকালের চিন্তা-চেতনা।

  1. ক)

    অপরিগ্রহ কাকে বলে

    (1)
  2. খ)

    হিন্দুধর্মকে একাধারে প্রাচীন এবং নবীন বলা হয়েছে কেন? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    আবিরের মধ্যে কোন সমাজ সংস্কারকের আদর্শ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'একং সদ্‌ বিপ্রা বহুধা বদন্তি' ধারণার আলোকে আবির ও সলিল উভয়ের ধারণাই সঠিক- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তু গ্রহণ না করাকে অপরিগ্রহ বলে।

  2. খ)

    হিন্দুধর্ম প্রাচীন কারণ এটি তার সনাতন ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। সৃষ্টির আদিকাল থেকে এ ধর্মমতের পরিচয় মেলে এবং সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শনেও এর কিছু ধারণা পাওয়া যায়। আবার নবীন কারণ সনাতন ঐতিহ্য বজায় রেখেও এ ধর্ম যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলছে এবং নতুন নতুন ধর্মীয় চিন্তা গ্রহণ করছে। তাই একে একাধারে প্রাচীন ও নবীন বলা হয়েছে।

  3. গ)

    আবিরের মধ্যে রাজা রামমোহন রায়ের আদর্শ ফুটে উঠেছে।

    ১. রামমোহন লক্ষ করেন বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক হয়ে হিন্দু সম্প্রদায় সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন সব উপাস্য একই ব্রহ্মের প্রকাশ।
    ২. তিনি এক ব্রহ্মের উপাসনার আহ্বান জানান এবং 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন। তাঁর মতে ব্রহ্মই একমাত্র আরাধ্য।
    ৩. উদ্দীপকে আবিরও দেব-দেবীর পূজা না করে দেব-দেবীকে ঈশ্বরের শক্তির প্রকাশ মনে করেন এবং শুধু ঈশ্বরের পূজা করেন।

    অতএব, আবিরের চিন্তায় রামমোহন রায়ের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি' অর্থ সত্য এক, জ্ঞানীরা তাঁকে বিভিন্ন নামে ডাকেন। এ ধারণা অনুযায়ী বিষ্ণু, রুদ্র, শক্তির দেবী সবাই এক মূলতত্ত্বের প্রকাশ। এই আলোকে আবির ও সলিলের ধারণা বিশ্লেষণ করা হলো—

    ১. আবিরের ধারণা: আবির দেব-দেবীকে ঈশ্বরেরই এক একটি শক্তির প্রকাশ মনে করে সরাসরি ঈশ্বরের পূজা করে। এটি নিরাকার উপাসনা, যা এক ব্রহ্মের উপাসনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
    ২. সলিলের ধারণা: সলিল মা কালীর আরাধনা করে। মা কালী সেই এক ঈশ্বরেরই একটি রূপ বা শক্তি। এটি সাকার উপাসনা, যা ভক্তিযোগের অন্তর্ভুক্ত।
    ৩. সমন্বয়: ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছেন 'যত মত, তত পথ'। গীতাতেও নিরাকার ও সাকার দুই পথই ঈশ্বরলাভের পথ হিসেবে স্বীকৃত। উভয় পথেই একই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো যায়।

    সুতরাং, 'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি' ধারণার আলোকে আবির ও সলিল উভয়ের ধারণাই সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন