পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব সাজিদ হোসেন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি ছিলেন আপসহীন। অবিভক্ত বাংলার আন্দোলনেও তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর বন্ধু জনাব রিফাত আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতিতেও ছিলেন সক্রিয়। জনগণের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে তিনি সুদখোর মহাজনদের কবল থেকে কৃষকদের মুক্ত করার জন্য একটি আইন প্রণয়ন করেন।
- ক)(1)
তিতুমীরের পুরো নাম কী?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জনাব সাজিদ হোসেনের সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় জনাব রিফাতের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তিতুমীরের পুরো নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরায়েজি আন্দোলন হলো ঊনবিংশ শতাব্দীতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত একটি ইসলামি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। 'ফরায়েজি' শব্দটি এসেছে আরবি 'ফরজ' (অবশ্য পালনীয় কর্তব্য) শব্দ থেকে। ইসলাম ধর্মের মৌলিক ফরজ অনুশাসনগুলো যথাযথভাবে পালন করা, শিরক ও বিদআত দূর করা এবং তৎকালীন শোষিত মুসলিম কৃষক সমাজকে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার থেকে মুক্ত করাই ছিল এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব সাজিদ হোসেনের সাথে আমার পঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মিল রয়েছে।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আইন পেশায় নিযুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের রাজনীতিতে অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন আজীবন গণতন্ত্রের মানসপুত্র। অবিভক্ত বাংলা আন্দোলনের (যুক্ত বাংলা গঠন) ক্ষেত্রে শরৎচন্দ্র বসুর সাথে মিলে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সাজিদ হোসেন অক্সফোর্ড থেকে পড়াশোনা শেষ করে আইন ব্যবসা শুরু করেন, গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেন এবং অবিভক্ত বাংলার আন্দোলনে অবদান রাখেন। এই ঐতিহাসিক ও চারিত্রিক দিকগুলোর সাথে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কর্মকাণ্ডের পূর্ণ মিল বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব রিফাতের কর্মকাণ্ডে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের প্রতিফলন দেখা যায়, যিনি কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ঐতিহাসিক অবদান রেখেছিলেন।
তৎকালীন বাংলায় কৃষকেরা মহাজনদের উচ্চ সুদের ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছিল। এ. কে. ফজলুল হক ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন (সংশোধনী) ১৯৩৮' এবং 'মহাজনি আইন ১৯৪০' পাস করেন। পাশাপাশি 'ঋণ সালিশি বোর্ড' গঠন করে কৃষকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ঋণ থেকে মুক্তি দেন।
উদ্দীপকের রিফাত আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে মহাজনদের কবল থেকে কৃষকদের মুক্ত করার আইন প্রণয়ন করেন, যা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ঐতিহাসিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের অনুরূপ। তাই বলা যায়, কৃষকদের শোষণের হাত থেকে বাঁচাতে ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল যুগান্তকারী ও অনন্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও