অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
জন্মহার কী?
- খ)(2)
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন তত্ত্ব- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বটির কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় যতজন জীবিত সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তাকে জন্মহার বা স্থূল জন্মহার (CBR) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মূলত কোনো নির্দিষ্ট বছরে জন্মহার ও মৃত্যুহারের ব্যবধানের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়। এর সাথে নিট অভিবাসনও বিবেচনা করা হতে পারে। সাধারণত সূত্রটি হলো:
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার = [(স্থূল জন্মহার - স্থূল মৃত্যুহার) + নিট অভিবাসন হার] ÷ ১০।
সাধারণভাবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার = [(নির্দিষ্ট বছরের জন্মসংখ্যা - মৃত্যুসংখ্যা) ÷ বছরের মধ্যবর্তী মোট জনসংখ্যা] × ১০০। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে থমাস রবার্ট ম্যালথাস কর্তৃক প্রদত্ত 'ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব' (ম্যালথাসীয় চক্র) নির্দেশ করা হয়েছে।
ম্যালথাসের মতে, কোনো দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...) এবং জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬...)। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় খাদ্য উৎপাদন পিছিয়ে পড়ে এবং খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়ে 'জনাধিক্য' দেখা দেয়। মানুষ যদি কৃত্রিম বা প্রতিরোধক উপায়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, যুদ্ধবিগ্রহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক নিরোধের মাধ্যমে জনসংখ্যা হ্রাস পেয়ে খাদ্যের সাথে ভারসাম্য ফিরে আসে।
উদ্দীপকের বৃত্তাকার চিত্রে খাদ্য ও জনসংখ্যার ব্যবধান, জনাধিক্য এবং প্রাকৃতিক নিরোধের যে চক্রাকার রূপ দেখানো হয়েছে, তা মূলত ম্যালথাসীয় চক্রকেই তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি আংশিক কার্যকর হলেও পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। নিম্নে এর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. তাত্ত্বিক দিক থেকে কার্যকারিতা: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। একসময় এখানে উচ্চ জন্মহার এবং সীমিত খাদ্য উৎপাদনের কারণে খাদ্য সংকট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রবল ছিল। সেই অর্থে অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা ম্যালথাসের পূর্বাভাসের সাথে কিছুটা মিলে যায়।
২. আধুনিক প্রেক্ষাপটে অকার্যকারিতা:
ক. খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা: ম্যালথাসের বক্তব্য অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন কেবল গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উন্নত বীজ, সার, সেচ ও আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে এবং খাদ্য উৎপাদন জ্যামিতিক হারের থেকেও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
খ. জন্মহার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা, সচেতনতা এবং শিক্ষার প্রসারের ফলে জন্মহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা ম্যালথাসের তত্ত্বের বাইরে মানবিক উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন।
গ. প্রাকৃতিক নিরোধের অপ্রাসঙ্গিকতা: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কারণে প্রাকৃতিক নিরোধ বা মহামারিতে আগের মতো ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে না।অতএব, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বটির কিছু ভীতি সত্য মনে হলেও, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক নীতি বাস্তবায়নের ফলে ম্যালথাসের তত্ত্বটি বাংলাদেশে বর্তমানে পুরোপুরি কার্যকর বা প্রযোজ্য নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও