বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নিঃসন্তান বিপত্নীক আসাদ সাহেবের মৃত্যুর পর বিশাল বাড়ির মালিক হয় কলেজ পড়ুয়া স্ফূর্তিবাজ আরিফ। বিশাল এ সংসারের দায়িত্ব পাওয়ার পর সে স্ফূর্তিবাজি ছেড়ে কর্তব্যবোধসম্পন্ন মালিকে পরিণত হয়। কিন্তু কর্মচারীরা আরিফের পূর্ব জীবন নিয়ে তার আড়ালে সমালোচনা করে। সেই সুযোগে দুই ভাড়াটিয়া দারোয়ান ও বাবুর্চির সাথে চক্রান্ত করে আরিফকে হত্যা করে বাড়ি দখল করে।

  1. ক)

    রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "আজ আমরা সবাই সন্দেহের দোলায় দুলছি।"-উক্তিটি কে, কেন করেছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোন চরিত্রটি সিরাজউদ্দৌলার প্রতিনিধিত্ব করে? বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিষয়বস্তুতে পার্থক্য থাকলেও একই ধারায় প্রবাহিত।" মতামতটি বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম মীর মর্দানের বিশ্বস্ত অনুচর ও দেশপ্রেমিক অমরচাঁদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা করেছেন, কারণ তাঁর দরবারের অমাত্য ও সেনাপতিদের আনুগত্য নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

    ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সন্ধিক্ষণে নবাব বুঝতে পারছিলেন যে তাঁর ঘনিষ্ঠ সভাসদ ও সেনাপতিরা অন্তরে ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু কে তাঁর প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী আর কে চক্রান্তকারী বিশ্বাসঘাতক, তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। বিশ্বাসঘাতকতার এই সার্বিক পরিবেশ দরবারে এমন অবিশ্বাস তৈরি করেছিল যে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এই তীব্র সংশয় ও মানসিক যন্ত্রণা থেকেই নবাব এ উক্তি করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কলেজপড়ুয়া আরিফ চরিত্রটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রতিনিধিত্ব করে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে তরুণ বয়সে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর সিরাজ বিশাল বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে বসেন। তরুণ সিরাজ অতীতে কিছুটা বিলাসী বা চঞ্চল প্রকৃতির থাকলেও দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তিনি একজন কর্তব্যপরায়ণ, দেশপ্রেমিক ও প্রজাহিতৈষী শাসকে পরিণত হন। কিন্তু তাঁর অতীত নিয়ে বিরোধী গোষ্ঠী নানা রটনা ও অপপ্রচার চালায় এবং শেষ পর্যন্ত কর্মচারীদের ষড়যন্ত্রেই তিনি নির্মম পরিণতির শিকার হন।

    উদ্দীপকের আরিফও আসাদ সাহেবের মৃত্যুর পর বিশাল সংসারের দায়িত্ব পেয়ে পূর্বের স্ফূর্তিবাজি পরিহার করে দায়িত্ববান হয়ে ওঠে। কিন্তু তার অতীত জীবন নিয়ে কর্মচারীরা সমালোচনা করে এবং কর্মচারীদের ষড়যন্ত্রে সে নিহত হয়। আরিফের এই দায়িত্ববোধ, পূর্ব জীবনের পরিবর্তন এবং আপন কর্মচারীদের বিশ্বাসঘাতকতায় করুণ পরিণতি বরণ করার বৈশিষ্ট্য সরাসরি সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রের সাথে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিষয়বস্তুতে পার্থক্য থাকলেও একই ধারায় প্রবাহিত"—মতামতটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    উদ্দীপকটির পটভূমি পারিবারিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সেখানে একটি পারিবারিক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে ভাড়াটিয়া ও গৃহভৃত্যদের চক্রান্ত এবং হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাড়ি দখলের চিত্র রয়েছে। অন্যদিকে, সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পটভূমি জাতীয় ও ঐতিহাসিক। সেখানে বাংলার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই ও মসনদ দখলের রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। পরিসরের দিক থেকে দুটি কাহিনীর বিষয়বস্তু ভিন্ন।

    তবে বিষয়বস্তুর এই বাহ্যিক ভিন্নতা সত্ত্বেও দুটি কাহিনীর অন্তর্নিহিত মূল সুর বা ভাবধারা সম্পূর্ণ এক ও অভিন্ন। উভয় কাহিনীতেই দেখা যায়:
    ১. এক তরুণ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ ও ইতিবাচক রূপান্তর (আরিফ ও সিরাজউদ্দৌলা)।
    ২. পূর্ব জীবনের ভুল নিয়ে শত্রুদের অপপ্রচার।
    ৩. ঘনিষ্ঠ ও আশ্রিত ব্যক্তিদের (উদ্দীপকে দারোয়ান-বাবুর্চি, নাটকে মীরজাফর-ঘসেটি বেগম) চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও গোপন আঁতাত।
    ৪. ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার/সম্পত্তির দখল এবং নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ড।

    সুতরাং, পরিসর পারিবারিক হোক বা রাষ্ট্রীয়, চক্রান্ত ও বিশ্বাসঘাতকতার করুণ পরিণতির মূল সুর উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন