বাংলা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
3.
স্বদেশপ্রেম
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বদেশপ্রেম
ভূমিকা:
স্বদেশপ্রেম মানুষের একটি সহজাত ও মহৎ প্রবৃত্তি। স্বদেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই স্বদেশপ্রেমের জন্ম। যে দেশের আলো-বাতাসে মানুষ লালিত-পালিত হয়, যে দেশের মাটি তাকে অন্ন জোগায়, সেই দেশের প্রতি অন্তরের গভীর টান অনুভব করাই স্বদেশপ্রেম। কবি বলেছেন—
"যে দেশেতে জন্ম ভাই,
সে দেশ ভালোবাসি তাই।"
স্বদেশপ্রেমের স্বরূপ:
স্বদেশপ্রেম কেবল মুখের ভাষায় সীমাবদ্ধ নয়; তা হৃদয়ের গভীর অনুভূতি ও কর্মের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা দেশপ্রেমেরই অংশ। নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের বৃহত্তর কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।
ইতিহাসে স্বদেশপ্রেম:
বাঙালির ইতিহাস মূলত স্বদেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের এক অনন্য ইতিহাস। ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবই ছিল এ দেশের মানুষের স্বদেশপ্রেমের গৌরবময় বহিঃপ্রকাশ। লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ।
ছাত্রসমাজ ও দেশপ্রেম:
ছাত্রসমাজ দেশের ভবিষ্যৎ। জাতীয় উন্নতি ও দেশের অগ্রগতিতে ছাত্রদের ভূমিকা অপরিসীম। নিজেদের সুশিক্ষিত, চরিত্রবান ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ছাত্রদের প্রথম ও প্রধান দেশপ্রেমের কাজ। এছাড়া অন্যায়, অনাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়াও তাদের দায়িত্ব।
উপসংহার:
স্বদেশপ্রেম প্রতিটি নাগরিকের অপরিহার্য গুণ। তবে অন্ধ বা উগ্র জাতীয়তাবাদ কখনও কল্যাণ বয়ে আনে না; তাই নিজের দেশকে ভালোবাসার পাশাপাশি বিশ্বভ্রাতৃত্বকেও সম্মান করতে হবে। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও