কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

ধানচাষী আব্দুর রহিম টেলিভিশনে সরিষা বীজ উৎপাদনের উপর একটি প্রতিবেদন দেখেন। উক্ত প্রতিবেদনটি দেখে তিনি বীজ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ হন। এজন্য তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে “বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ”-এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে কৃষি কর্মকর্তা ফসলের জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, “ভালো ফসল উৎপাদনে বীজ শোধনের গুরুত্ব অপরিসীম।”

  1. ক)

    কৃত্রিম প্রজনন কী ?

    (1)
  2. খ)

    “পাটের রিবন রেটিং একটি পরিবেশ-বান্ধব পদ্ধতি”- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘কৃষি কর্মকর্তা কী ধরনের পদক্ষেপের কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তার শেষোক্ত উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃত্রিম উপায়ে স্ত্রী প্রজননতন্ত্রে উপযুক্ত সময়ে পুরুষের শুক্রাণু প্রবেশ করিয়ে গর্ভধারণ করানোর প্রক্রিয়াকে কৃত্রিম প্রজনন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রিবন রেটিং হলো কাঁচা পাটগাছ থেকে রিবনারের সাহায্যে ছাল বা বাকল আলাদা করে নিয়ে কম পানিতে সুবিধাজনক পাত্র বা গর্তে পচানোর একটি উন্নত পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে পুরো পাটগাছ পানিতে জাগ দিলে প্রচুর পানি লাগে এবং পচনের ফলে আশপাশের জলাশয়ের পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও মাছ মরে যায়। অন্যদিকে, রিবন রেটিং পদ্ধতিতে খুব সামান্য পানিতে কম সময়ে পাট পচানো যায় এবং জলাশয়ের পানি দূষিত হয় না। এ কারণে পাটের রিবন রেটিং একটি পরিবেশ-বান্ধব পদ্ধতি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তা ফসলের জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য ‘রোগিং বা বাছাইকরণ’ (Roguing) এবং ‘পৃথকীকরণ দূরত্ব’ (Isolation distance) বজায় রাখার মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলেছেন।

    বীজ ফসলের জমিতে কাঙ্ক্ষিত জাত ছাড়া অন্য কোনো জাতের গাছ, আগাছা বা রোগাক্রান্ত গাছপালা থাকলে উৎপাদিত বীজের বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়ে যায়। জাতের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য বীজ উৎপাদনের জমিতে ফুল আসার আগে, ফুল আসার সময় এবং ফসল পরিপক্ব হওয়ার সময় অনির্দিষ্ট বা ভিন্ন জাতের গাছ তুলে ফেলতে হয়, যাকে রোগিং বলে। এছাড়া অন্যান্য জাতের ফসলের সাথে যাতে পরপরাগায়ন না ঘটে, সেজন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ফসল আবাদ করতে হয়। কৃষি কর্মকর্তা মূলত জাতের গুণগত মান ও বিশুদ্ধতা অক্ষুণ্ণ রাখতে এসব পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তার “ভালো ফসল উৎপাদনে বীজ শোধনের গুরুত্ব অপরিসীম” উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও বিজ্ঞানসম্মত।

    বীজ শোধন হলো বীজ বপনের পূর্বে রাসায়নিক, ভৌত বা জৈবিক উপায়ে বীজের অভ্যন্তরে বা গায়ে লেগে থাকা রোগজীবাণু ধ্বংস করার প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের অনেক রোগ, যেমন—ধানের ব্লাইট, গমের ব্লাস্ট বা আলুর ধসা রোগ বীজবাহিত হয়ে থাকে। বীজ শোধন না করে জমিতে বপন করলে চারা গজানোর সাথে সাথেই জীবাণু চারাকে আক্রমণ করে, ফলে অঙ্কুরোদ্গমের হার কমে যায় এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

    বীজ শোধনের ফলে বীজবাহী ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও কৃমি জাতীয় ক্ষতিকর উপাদান ধ্বংস হয়। এতে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত চারা গজায়, যা পরবর্তীতে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করতে পারে। শোধিত বীজ ব্যবহারে চারা পর্যায়ে বালাইনাশকের বাড়তি খরচ বাঁচে এবং অধিক ও মানসম্মত ফলন নিশ্চিত হয়। অতএব, ভালো ফসল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো রোগমুক্ত ও শোধিত বীজ ব্যবহার করা। তাই কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যটি শতভাগ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন