অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সম্প্রতি এক সেমিনারে বক্তারা মতামত প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। GDP তে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। GDP তে কৃষির অবদান কমেছে। মানবসম্পদসহ অন্যান্য খাতের উন্নয়ন সম্ভব হলে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
- ক)(1)
অর্থনৈতিক অবকাঠামো কাকে বলে?
- খ)(2)
কী কী শিল্পের জন্য মুসলিম যুগ বিখ্যাত ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিধারা পরিবর্তনের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বক্তাদের ধারণা অনুযায়ী বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছাতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা বা সহায়ক ভিত্তিকে অর্থনৈতিক অবকাঠামো বলে; যেমন- পরিবহন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম যুগে বাংলা বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত বস্ত্র ও কুটির শিল্পের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত ছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল ঢাকার বিখ্যাত 'মসলিন' কাপড়। এ ছাড়া রেশম বস্ত্র, তাঁত বস্ত্র, সুতি বস্ত্র, সোনা-রুপা ও কাঁসা-পিতলের তৈরি সূক্ষ্ম অলঙ্কার ও সামগ্রী এবং উন্নতমানের নৌযান নির্মাণ শিল্পের জন্য এ যুগ জগৎজুড়ে সুপরিচিত ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিধারার কাঠামোগত পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতাত্তোর সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক গতিধারায় স্পষ্ট পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়।
একসময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর এবং জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল সিংহভাগ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শিল্প ও সেবা খাতের দ্রুত প্রসারের ফলে জিডিপিতে কৃষির আপেক্ষিক অবদান ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে এবং শিল্প ও সেবা খাতের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP growth) বেড়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং উৎপাদনশীল খাতে গতি এসেছে। কৃষির আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির প্রসারের পাশাপাশি সেবা ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের বিস্তৃতি বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোকে একটি কৃষিপ্রধান অনুন্নত অর্থনীতি থেকে ক্রমেই উন্নয়নশীল ও গতিশীল অর্থনীতির দিকে রূপান্তর করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ব্যক্ত আশাবাদ অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা আবশ্যক ছিল:
১. মানবসম্পদ উন্নয়ন: মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়িয়ে বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা।
২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করা।
৩. বিনিয়োগ বৃদ্ধি: দেশি ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা।
৪. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে চামড়া, ওষুধ, পাটজাত পণ্য, সফটওয়্যার ও আইসিটি খাতের প্রসার ঘটানো।
৫. সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা: আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, দুর্নীতির রাশ টানা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
উপসংহারে বলা যায়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে মধ্যম আয়ের দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও