অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব 'X' ২০১৫ সালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কারখানা স্থাপন করেন। তখন তার কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা ছিলো ৮০ জন। কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকায় সাত (৭)বছর পরে জনাব 'X' ১০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং আরও ৮০ জন শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে কারখানার উৎপাদন সম্প্রসারণ করেন।
- ক)(1)
PPP-এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
'বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন নয়, সাশ্রয় করাই হলো আমদানি বিকল্প শিল্পের উদ্দেশ্য' ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জনাব 'x' এর কারখানা কোন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
২০২২ সালে শিল্পটির পরিবর্তন বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
PPP-এর পূর্ণরূপ হলো Public-Private Partnership (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব)। [অর্থনীতিতে ক্রয়ক্ষমতা সমতার ক্ষেত্রে এর পূর্ণরূপ Purchasing Power Parity]।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প হলো এমন এক ধরনের শিল্পনীতি, যার মাধ্যমে পূর্বে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো এমন পণ্যসামগ্রী দেশীয় কারখানায় উৎপাদন করা হয়।
এই শিল্পের মূল লক্ষ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা নয়; বরং যেসব পণ্য আমদানির পেছনে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হতো, সেগুলো দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করা এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা। ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমে এবং নিজস্ব শিল্প ভিত্তি মজবুত হয়। এজন্য বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন নয়, সাশ্রয় করাই হলো আমদানি বিকল্প শিল্পের উদ্দেশ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জনাব 'X'-এর কারখানাটি 'মাঝারি শিল্প' (Medium Industry)-এর অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং অনূর্ধ্ব ৫০ কোটি টাকা অথবা যে প্রতিষ্ঠানে ১২১ জন থেকে অনধিক ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে। কিন্তু ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে উৎপাদনমুখী শিল্পে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ দেড় কোটি টাকার অধিক কিন্তু অনূর্ধ্ব ১৫ কোটি টাকা কিংবা শ্রমিকের সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জন হতে হয়।
উদ্দীপকে ২০১৫ সালে জনাব 'X' ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানাটি স্থাপন করেন এবং তখন শ্রমিক সংখ্যা ছিল ৮০ জন। এখানে বিনিয়োগের পরিমাণ (১০ কোটি টাকা, যা ১.৫ কোটি থেকে ১৫ কোটির মধ্যে) এবং শ্রমিকের সংখ্যা (৮০ জন, যা ৩১ থেকে ১২০ জনের মধ্যে) উভয়ের মানদণ্ডেই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র শিল্পের সীমার মধ্যে পড়ে। অতএব, জাতীয় শিল্পনীতির উৎপাদনমুখী মানদণ্ড অনুযায়ী ২০১৫ সালে জনাব 'X'-এর কারখানাটি একটি 'ক্ষুদ্র শিল্প' (Small Industry)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
২০২২ সালে (৭ বছর পরে) জনাব 'X'-এর শিল্প প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র শিল্প থেকে মাঝারি শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে।
জাতীয় শিল্পনীতি অনুসারে, উৎপাদনমুখী শিল্পে:
১. ক্ষুদ্র শিল্প: স্থায়ী সম্পদ প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১.৫ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা অথবা শ্রমিক সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জন।
২. মাঝারি শিল্প: স্থায়ী সম্পদ প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক কিন্তু অনূর্ধ্ব ৫০ কোটি টাকা অথবা শ্রমিক সংখ্যা ১২১ থেকে ৩০০ জন।উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০২২ সালে জনাব 'X' আরও ১০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে বিনিয়োগ করেন এবং অতিরিক্ত ৮০ জন শ্রমিক নিয়োগ করেন। ফলে:
- মোট মূলধন/বিনিয়োগ দাঁড়ায় = (১০ + ১০) কোটি = ২০ কোটি টাকা।
- মোট শ্রমিক সংখ্যা দাঁড়ায় = (৮০ + ৮০) জন = ১৬০ জন।
এখানে মোট বিনিয়োগ ২০ কোটি টাকা (যা ১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে) এবং শ্রমিক সংখ্যা ১৬০ জন (যা ১২১ থেকে ৩০০ জনের মধ্যে)। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ও শ্রমিক উভয় মানদণ্ডেই ক্ষুদ্র শিল্পের সীমা অতিক্রম করে মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। সুতরাং, উৎপাদন সম্প্রসারণের ফলে ২০২২ সালে জনাব 'X'-এর কারখানাটির কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে এবং এটি ক্ষুদ্র শিল্প থেকে মাঝারি শিল্পে উন্নীত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও