অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. রবি গ্রাম্য-মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে বেত দ্বারা বিভিন্ন ধরনের চেয়ার, দোলনা ও সোফাসেটসহ অনেক দ্রব্য সামগ্রী তৈরি করেন। এই কাজে তার স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাই তাকে সাহায্য করে। উৎপাদিত দ্রব্যসমূহ বাজারে বিক্রি করে যে মুনাফা অর্জন করে, তা দিয়ে তিনি ঋণ পরিশোধসহ পরিবারের যাবতীয় খরচ বহন করতে পারে। তাকে দেখে গ্রামের অনেকেই এই কাজে আত্মনিয়োগ করে।

  1. ক)

    PPP কি?

    (1)
  2. খ)

    আমদানি বিকল্প শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়ক - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মি. রবির শিল্পটি কোন ধরনের শিল্প?

    (3)
  4. ঘ)

    বেকারত্ব হ্রাস, মহিলাদের কর্মসংস্থান ও সম্পদের সুষম বন্টনে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটির গুরুত্ব আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    PPP-এর পূর্ণরূপ হলো Public-Private Partnership (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমদানি বিকল্প শিল্প হলো এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠান যা পূর্বে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের বিকল্প পণ্য নিজ দেশেই উৎপাদন করে। এ ধরনের শিল্প গড়ে উঠলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব হয়। এর ফলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির পরিমাণ কমে যায় এবং আমদানির পেছনে ব্যয়িত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. রবির শিল্পটি একটি 'কুটির শিল্প'।

    সাধারণত পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে স্বল্প পুঁজি, দেশীয় কাঁচামাল ও শারীরিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব বাসগৃহে যে ক্ষুদ্র আকারের শিল্প পরিচালিত হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত এবং স্বল্প মূলধনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানই কুটির শিল্প।
    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. রবি স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নিজের বাড়িতে বেত দিয়ে চেয়ার, দোলনা ও সোফাসেট তৈরি করেন। এই কাজে তার পরিবারের সদস্য অর্থাৎ স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাই সহায়তা করেন। পারিবারিক শ্রম, স্বল্প মূলধন এবং স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত কাঁচামাল ব্যবহার করে বাড়িতে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এটি নিশ্চিতভাবেই একটি কুটির শিল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বেকারত্ব হ্রাস, মহিলাদের কর্মসংস্থান ও সম্পদের সুষম বণ্টনে উদ্দীপকে উল্লিখিত কুটির শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বেকারত্ব হ্রাস: বাংলাদেশ একটি অধিক জনসংখ্যার দেশ, যেখানে মূলধনের অভাব ও বেকারের সংখ্যা বেশি। কুটির শিল্প শ্রমঘন হওয়ায় তুলনামূলকভাবে খুব কম পুঁজিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে যেমন মি. রবি নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং তাকে দেখে গ্রামের অনেকেই এই পেশায় আত্মনিয়োগ করে নিজেদের বেকারত্ব দূর করেছেন।
    ২. মহিলাদের কর্মসংস্থান: কুটির শিল্প মূলত ঘরে বসেই পরিচালিত হয়। উদ্দীপকে মি. রবির স্ত্রীও এই কাজে সহায়তা করছেন। এর ফলে গ্রামীণ মহিলারা ঘরের স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হতে পারেন, যা নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
    ৩. সম্পদের সুষম বণ্টন: বৃহৎ শিল্প সাধারণত শহরকেন্দ্রিক এবং নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিপতির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, যা বৈষম্য বাড়ায়। অন্যদিকে, কুটির শিল্প দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গড়ে ওঠে। এর মাধ্যমে অর্জিত আয় তৃণমূলের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কাছে পৌঁছে, যা সমাজে আয় ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে।

    পরিশেষে বলা যায়, কুটির শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনবদ্য অবদান রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন