বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দিলসাদ শিক্ষা সফরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মুক্তিযোদ্যা এবং বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহার্য জিনিস পত্র যেমন-জামা-কাপড়, ঘড়ি, মানিব্যাগ, আংটি দেখতে পেল। সে সবকিছু খুব মনোযোগের সাথে দেখে।
- ক)(1)
'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থের লেখক কে
- খ)(2)
ইতিহাসের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দিলসাদ কোন ধরনের উপাদান দেখেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দিলসাদ কি উক্ত উপাদান ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লিখতে পারবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থের লেখক আবুল ফজল।
- খ)
ইতিহাসের বিষয়বস্তু হলো মানুষের অতীত কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক পরিচয়।
এর মধ্যে রাজনৈতিক ঘটনা, শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি, সমাজ, ধর্ম, শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বিজ্ঞান সবই পড়ে। শুধু রাজা-বাদশাহর কথা নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও তার পরিবর্তনও ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়।
- গ)
দিলসাদ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রত্নতাত্ত্বিক বা বস্তুগত উপাদান দেখেছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান বলতে অতীতের মানুষের ব্যবহৃত বা তৈরি করা বস্তুকে বোঝায়, যেমন ধ্বংসাবশেষ, মুদ্রা, শিলালিপি, অলংকার ও ব্যবহার্য সামগ্রী। উদ্দীপকে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের জামা-কাপড়, ঘড়ি, মানিব্যাগ ও আংটির মতো ব্যবহার্য জিনিস দেখানো হয়েছে। এগুলো সেই সময়ের মানুষের জীবন ও আত্মত্যাগের সরাসরি সাক্ষ্য বহন করে। তাই এগুলো বস্তুগত বা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান।
- ঘ)
শুধু এই উপাদান ব্যবহার করে দিলসাদ মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লিখতে পারবে না।
১. জামা-কাপড়, ঘড়ি, মানিব্যাগ ও আংটি থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের ব্যক্তিগত জীবন ও আত্মত্যাগের আভাস পাওয়া যায়, কিন্তু যুদ্ধের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, সময়কাল ও কার্যকারণ সম্পর্ক জানা যায় না।
২. পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসের জন্য লিখিত উপাদান, যেমন সরকারি দলিল, পত্রপত্রিকা, চিঠিপত্র, বিদেশি সংবাদ ও প্রতিবেদন দরকার।
৩. মুক্তিযোদ্ধা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মৌখিক সাক্ষ্য, ছবি ও ভিডিও থেকেও যুদ্ধের বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়।সুতরাং, প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান মূল্যবান হলেও অন্য উপাদানের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণ না করলে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও