ভূগোল এবং পরিবেশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

শিক্ষক ভূগোল বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বলেন যে, পৃথিবীর এমন একটি গতি আছে যার মাধ্যমে সময় নির্ধারিত হয়। তখন শিক্ষক ভিন্ন আরেকটি গতির কথা বলেন, যেটির কারণে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়।

  1. ক)

    মেরু রেখা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    গ্রহরাজ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শ্রেণিকক্ষে উল্লিখিত গতিটির কারণটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শ্রেণি শিক্ষকের উল্লিখিত ভিন্ন গতিটি জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রিত করে— সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পৃথিবীর গোলাকৃতি কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে মেরুরেখা বা অক্ষ (Axis) বলে।

  2. খ)

    সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলে। এর ব্যাস ১,৪২,৯৮৪ কিলোমিটার এবং এটি আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১,৩০০ গুণ বড়। এর উপগ্রহের সংখ্যাও অনেক (৭৯টি)। আকার ও আয়তনে সবচেয়ে বড় বলেই একে গ্রহরাজ বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক পৃথিবীর যে গতির কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে সময় নির্ধারিত হয়, সেটি আহ্নিক গতি। পৃথিবী নিজ মেরুরেখার উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে এবং একবার আবর্তন করতে সময় নেয় প্রায় ২৪ ঘণ্টা (এক সৌরদিন)।

    ১. এই একবার আবর্তনের সময়ের ২৪ ভাগের এক ভাগকে ঘণ্টা, তার ৬০ ভাগের ১ ভাগকে মিনিট এবং মিনিটের ৬০ ভাগের ১ ভাগকে সেকেন্ড ধরে সময় গণনা করা হয়।
    ২. পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় 360∘360^\circ ঘোরে, তাই প্রতি ১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট। আবর্তন পশ্চিম থেকে পূর্বে হওয়ায় পূর্বের স্থানে আগে এবং পশ্চিমের স্থানে পরে দিন হয়।
    ৩. এই কারণেই সূর্যের অবস্থান থেকে স্থানীয় সময় এবং দেশের প্রমাণ সময় নির্ধারণ করা যায়।

    অতএব, পৃথিবীর আহ্নিক গতিই সময় নির্ধারণের মূল কারণ।

  4. ঘ)

    শিক্ষকের উল্লিখিত ভিন্ন গতিটি হলো বার্ষিক গতি, যার কারণে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য হ্রাস-বৃদ্ধি পায়। এই গতি ঋতু পরিবর্তনের মাধ্যমে জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    ১. সূর্যরশ্মির তারতম্য: পৃথিবী সূর্যকে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে একবার পরিক্রমণ করে। পরিক্রমণের সময় সূর্যরশ্মি কখনো নিরক্ষরেখায়, কখনো কর্কটক্রান্তিতে, কখনো মকরক্রান্তিতে লম্বভাবে পড়ে। ফলে বিভিন্ন স্থানে সূর্যকিরণ কমবেশি পড়ে এবং বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার পার্থক্য ঘটে।
    ২. দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি: পৃথিবীর মেরুরেখা কক্ষতলের সঙ্গে 66.5∘66.5^\circ কোণে হেলে থাকায় যে গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে সেখানে দিন বড় ও তাপমাত্রা বেশি হয়। বিপরীত গোলার্ধে দিন ছোট ও তাপমাত্রা কম হয়।
    ৩. ঋতু পরিবর্তন: তাপমাত্রার এই পার্থক্যের ফলে ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীত, আবার ২২ ডিসেম্বর এর বিপরীত অবস্থা হয়। এভাবে বিভিন্ন স্থানে জলবায়ুর বিভিন্নতা সৃষ্টি হয়।

    সুতরাং, বার্ষিক গতির কারণে সূর্যকিরণের তারতম্য, দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন ঘটে, যা জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন