বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.
(ক) ভাবসম্প্রসারণ করো:মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয়।অথবা, (খ) সারাংশ লেখো:আজকের দুনিয়াটা আশ্চর্যভাবে অর্থের বা বিত্তের ওপর নির্ভরশীল। লাভ ও লোভের দুর্নিবার গতি কেবল আগে যাবার নেশায় লক্ষ্যহীন প্রচণ্ডবেগে শুধু আত্মবিনাশের পথে এগিয়ে চলেছে। মানুষ যদি এই মূঢ়তাকে জয় না করতে পারে তবে মনুষ্যত্ব কথাটাই হয়তো লোপ পেয়ে যাবে। মানুষের জীবন আজ এমন এক পর্যায়ে এসে পৌছেছে যেখান থেকে আর হয়তো নামবার উপায় নেই, এবার উঠবার সিঁড়ি না খুঁজলেই নয়।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) ভাবসম্প্রসারণ:
মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়
মূলভাব: মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে তার মহৎ কর্ম ও অবদানের ওপর, কেবল শারীরিক আয়ুষ্কালের ওপর নয়।
সম্প্রসারিত ভাব: মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টুকুই জীবন। কিন্তু শুধু বহু বছর বেঁচে থাকাই জীবনের আসল পরিচয় বহন করে না। কোনো মানুষ শতবর্ষ বেঁচে থেকেও যদি সমাজের কোনো কল্যাণে না আসে, তবে তার বেঁচে থাকা অর্থহীন। পক্ষান্তরে, যিনি স্বল্পায়ু হয়েও আত্মত্যাগ ও সৃজনশীল মহৎ কর্মের মাধ্যমে মানবকল্যাণে অবদান রেখে যান, তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন। জগতের ইতিহাসে বহু মনীষী, বিজ্ঞানী, কবি ও সাহিত্যিক খুব অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তাঁদের অনন্য কীর্তির কারণে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। সুকান্ত ভট্টাচার্য, জন কিটস, স্বামী বিবেকানন্দ কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো ব্যক্তিরা তাঁদের কর্মগুণেই অমর হয়ে আছেন। কর্মহীন দীর্ঘজীবন নিষ্ফল, কিন্তু কল্যাণকর সংক্ষিপ্ত জীবনও জ্যোতির্ময়।
মন্তব্য: তাই পরমায়ুর দৈর্ঘ্য দিয়ে নয়, বরং কাজের মহত্ত্ব দিয়েই জীবনের পরিমাপ করা উচিত। সৎ ও জনকল্যাণমুখী কর্মের মাধ্যমেই মানুষ মরণশীল হয়েও অমরত্ব লাভ করে।
অথবা,
(খ) সারাংশ:
সারাংশ:
বর্তমান বিশ্ব অর্থ ও বিত্তের অন্ধ মোহে বিভ্রান্ত হয়ে আত্মবিনাশের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। মানবজাতি যদি লাগামহীন লোভ ও বস্তুবাদের এই পতনশীল ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে, তবে মনুষ্যত্ব বিলুপ্ত হবে। তাই বিনাশের পথ ত্যাগ করে আত্মশুদ্ধি ও মানবতার উত্তরণের পথ অন্বেষণ করাই এখন প্রধান কর্তব্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও