সাহিত্য পাঠ • আত্মচরিত • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে ‘বিশ্বাস’ অর্থাৎ ‘আত্মবিশ্বাস’ শব্দটি মানবমনের এমন শক্তির প্রতীক, যার কোনো যৌক্তিক সীমানা নেই। তবুও আত্মবিশ্বাসের ভালো উদাহরণ হিসেবে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ নাট্যকার ‘জর্জ বার্নাড শ’ এর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনিমাত্র ৫ বছর স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। দারিদ্র্যের কারণে মাত্র ১৫ (পনেরো) বছর বয়সে মাসে ৪০ টাকা বেতনে কেরানির কাজ নেন। কিন্তু লেখক হতে চেয়েছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন একদিন বড় লেখক হবেন। তাই তিনি নিয়মিত লেখা শুরু করেন। লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে তাঁর নয় বছর সময় লেগেছিল। লেখক জীবনের প্রথম নয় বছরে তাঁর লেখা থেকে আয় হয়েছিল মাত্র ৩০০ টাকা। কিন্তু তাঁর বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। লেখক হিসেবেই পরবর্তীতে উপার্জন করেছেন প্রচুর টাকা।
- ক)(1)
‘আমার পথ’ প্রবন্ধে নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতেই শেখাচ্ছিলেন কে?
- খ)(2)
লেখক নিজ সত্যকে সালাম জানিয়েছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জর্জ বার্নাড শ এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে ‘আমর পথ’ রচনার প্রাবন্ধিকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য বিচার কর।
- ঘ)(4)
“আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করাই উদ্দীপক আর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সারকথা।”-মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আমার পথ’ প্রবন্ধে মহাত্মা গান্ধী নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতে শেখাচ্ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লেখক নিজ সত্যকে সালাম জানিয়েছেন কারণ সেই সত্যই তাঁর জীবনের একমাত্র কর্ণধার এবং পথপ্রদর্শক।
প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম কোনো বাহ্যিক ভয়, কুসংস্কার বা পরনির্ভরশীলতায় বিশ্বাসী নন। তিনি তাঁর মনের ভেতরের সত্য ও অন্তরাত্মাকে উপলব্ধি করেছেন। অন্তরের এই সত্যকে চিনতে পেরেছেন বলেই তিনি কোনো অসত্য বা ভণ্ডামির কাছে মাথা নত করেন না। তাই লেখক তাঁর অন্তর্নিহিত আত্মমর্যাদাবোধ ও সত্যকেই সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে সালাম জানিয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জর্জ বার্নার্ড শ-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে ‘আমার পথ’ রচনার প্রাবন্ধিকের 'আত্মপ্রত্যয়' ও 'দৃঢ় আত্মবিশ্বাস'-এর দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরশীলতার জয়গান গেয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, যে মানুষ নিজের সত্যকে বিশ্বাস করে এবং আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়, সে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে। আত্মবিশ্বাস মানুষকে পরাশ্রয়িতা ও হীনম্মন্যতা থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলে।
উদ্দীপকে জর্জ বার্নার্ড শ মাত্র পাঁচ বছর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েও এবং দীর্ঘ নয় বছর চরম দারিদ্র্য ও ব্যর্থতার মধ্যেও নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন তিনি একজন বড় লেখক হবেন এবং এই অটুট আত্মবিশ্বাসই তাঁকে বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। প্রাবন্ধিকের আত্মশক্তি ও জর্জ বার্নার্ড শ-এর এই অবিচল আত্মপ্রত্যয় একই সূত্রে গাঁথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করাই উদ্দীপক আর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সারকথা”—মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নজরুল দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন যে, মানুষ যদি নিজেকে বিশ্বাস না করে অন্যের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করে, তবে সে কখনো প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও নজরুল স্বাবলম্বী হওয়ার ডাক দিয়েছেন, যাতে মানুষ নিজের সত্যকে চিনে আত্মবিশ্বাসী হতে পারে। আত্মবিশ্বাসই মানুষের ভেতরের ভীরুতা দূর করে তাকে নির্ভীক করে তোলে।
অন্যদিকে উদ্দীপকে জর্জ বার্নার্ড শ-এর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসের সেই অপরিমেয় শক্তির রূপটি তুলে ধরা হয়েছে। মাত্র পনেরো বছর বয়সে কেরানির কাজ করা এবং লেখক হিসেবে প্রথম নয় বছরে মাত্র তিনশত টাকা উপার্জন করা সত্ত্বেও জর্জ বার্নার্ড শ পথভ্রষ্ট হননি। তাঁর আত্মবিশ্বাসই তাঁকে নোবেলজয়ী লেখকে রূপান্তর করেছে।
অতএব, উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই দেখানো হয়েছে যে বাহ্যিক প্রতিকূলতা যতই আসুক না কেন, মানুষ যদি নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখে, তবে সে জীবনের যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। তাই আত্মবিশ্বাসই উদ্দীপক ও প্রবন্ধের মূল সুর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও