ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব জসিম একটি কারখানার মালিক। পদ্মা নদীর অদূরে তার কারখানা অবস্থিত। কখন কী ঘটে যায় এ ভেবে তিনি একটি বিমা কোম্পানির পলিসি গ্রহণ করেন। বিমার শর্তানুযায়ী যদি তার মৃত্যু ঘটে তবে তার পরিবার ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। জনাব জসিম নিজের বিষয়ে সচেতন হলেও তার কারখানায় তিনি বর্জ্য শোধন যন্ত্রপাতি বসান নি। ফলে অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছেন যা প্রাণিকুল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। এটি তিনি বুঝতে চাচ্ছেন না।
- ক)(1)
ট্রেডমার্ক কী?
- খ)(2)
কপিরাইট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জসিম বিমার কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিমা পলিসি গ্রহণ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব জসিম প্রাণিকুল ও পরিবেশের যে ক্ষতি করছেন তার জন্য গৃহীত আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ট্রেডমার্ক হলো কোনো ব্যবসা বা পণ্যের এমন একটি স্বতন্ত্র প্রতীক, চিহ্ন, নাম বা নকশা, যা দ্বারা একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে অন্য প্রতিষ্ঠানের সমজাতীয় পণ্য থেকে পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায় এবং যা আইনগতভাবে নিবন্ধিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কপিরাইট হলো কোনো মৌলিক সাহিত্যকর্ম, শিল্পকর্ম, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র বা সফটওয়্যারের স্রষ্টার তার সৃষ্টিকর্মের ওপর আইনগত একক মালিকানা ও পুনরুৎপাদনের অধিকার।
কপিরাইটের মাধ্যমে মূল স্রষ্টার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ তার সৃষ্টিকর্ম প্রকাশ, নকল, প্রদর্শন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে প্রণেতার মেধা ও আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব জসিম জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় 'বিমাযোগ্য স্বার্থ' ও 'আর্থিক নিরাপত্তা'র বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেছেন।
জীবন বিমা হলো বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যকার এমন একটি চুক্তি, যেখানে নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে তার মনোনীত ব্যক্তিকে বা মেয়াদপূর্তিতে বিমাগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এতে বিমাযোগ্য স্বার্থ অর্থাৎ নিজের জীবনের প্রতি পরিবারের আর্থিক নির্ভরশীলতা এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি মুখ্য থাকে।
উদ্দীপকে জনাব জসিম "কখন কী ঘটে যায়" এই আশঙ্কায় ১০ লক্ষ টাকার বিমা পলিসি গ্রহণ করেন, যাতে তার মৃত্যু হলে তার পরিবার ওই অর্থ পায়। সুতরাং তিনি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বিধান ও জীবনের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি কমানোকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব জসিম অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলে পরিবেশ ও প্রাণিকুল দূষিত করার কারণে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলো।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিল্পদূষণ রোধে বর্জ্য শোধন নিশ্চিত করা প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক আইনি ও সামাজিক দায়িত্ব। কিন্তু জনাব জসিম সচেতন হওয়া সত্ত্বেও কোনো ইটিপি (Effluent Treatment Plant) বা বর্জ্য শোধন যন্ত্রপাতি স্থাপন না করে পদ্মা নদীতে সরাসরি বিষাক্ত বর্জ্য ফেলছেন।
তার বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি ব্যবস্থার সুপারিশসমূহ:
১. পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ ও জরিমানা: পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক কারখানা পরিদর্শন করে পরিবেশ দূষণের মাত্রা নির্ধারণপূর্বক ক্ষতিপূরণ ধার্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আর্থিক জরিমানা আরোপ করা।
২. ইটিপি (ETP) স্থাপনের বাধ্যবাধকতা: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কার্যকর বর্জ্য শোধন যন্ত্রপাতি স্থাপনের নির্দেশ প্রদান এবং ব্যর্থতায় কারখানার লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা।
৩. কারখানা কার্যক্রম সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা: দূষণ বন্ধ না করা পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা বা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আইনি নির্দেশ জারি করা।
৪. ফৌজদারি মামলা দায়ের: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ফেলার দায়ে পরিবেশ আদালত আইনে মামলা দায়ের ও জেল-জরিমানার মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।এসব আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই নদীদূষণ রোধ এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও