অর্থনীতি • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি প্রশ্ন

প্রবাসী জাফর সাহেব বিদেশে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সেখানে সবকিছু সরকারি পরিকল্পনায় পরিচালিত হয়। ব্যদ্ভিগত মুনাফার কোনো সুযোগ নাই। জাফর সাহেবের ছোট ভাই দেশে একটি সাবান ফ্যাক্টরির মালিক। তিনি অধিক মুনাফার জন্য উৎপাদন করেন। উৎপন্ন সাবানের দাম বাজারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওঠানামা করে।

  1. ক)

    আদিম সমাজের মূলমন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    অধ্যাপক এল, রবিস প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞার অধিক গ্রহণযোগ্যতার কারণ কী?ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জাফর সাহেব যে দেশে চাকরি করেন সে দেশে প্রচলিত অর্থব্যবস্থা কোনটি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শেষোন্ত দেশে কোন অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? দুটি দেশের মধ্যে ভোক্তার স্বাধীনতা ও আয় বৈষম্য তুলনা করে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আদিম সমাজের মূলমন্ত্র ছিল বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহ করা।

  2. খ)

    অধ্যাপক রবিন্সের সংজ্ঞা অধিক গ্রহণযোগ্য, কারণ এটি অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেয়, যা সব সমাজ ও অর্থব্যবস্থায় প্রযোজ্য। এটি শুধু সম্পদ বা বস্তুগত কল্যাণ নয়, মানুষের সব ধরনের অর্থনৈতিক আচরণ ব্যাখ্যা করে। এছাড়া এটি নিরপেক্ষ, কোনো নৈতিক বিচারে যায় না এবং এর পরিধি বিস্তৃত। তাই এটি অধিক গ্রহণযোগ্য।

  3. গ)

    জাফর সাহেব যে দেশে চাকরি করেন, সেখানে সবকিছু সরকারি পরিকল্পনায় পরিচালিত হয় এবং ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ নেই। এটি সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (Socialist Economy)।

    এ ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা থাকে এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ কী, কতটুকু ও কার জন্য উৎপাদন হবে তা ঠিক করে। ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্য নেই, সামাজিক কল্যাণই লক্ষ্য।

  4. ঘ)

    শেষোক্ত দেশে অর্থাৎ জাফর সাহেবের ছোট ভাইয়ের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান, কারণ সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে উৎপাদন হয় এবং দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওঠানামা করে।

    তুলনা:
    ১. ভোক্তার স্বাধীনতা: ধনতান্ত্রিক দেশে ভোক্তা নিজের পছন্দমতো দ্রব্য কেনার স্বাধীনতা পায়; সমাজতান্ত্রিক দেশে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদিত দ্রব্যের মধ্যেই পছন্দ সীমিত।
    ২. আয় বৈষম্য: ধনতান্ত্রিক দেশে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মুনাফার কারণে ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য বেশি; সমাজতান্ত্রিক দেশে ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকায় আয় বৈষম্য কম।

    সুতরাং, ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোক্তার স্বাধীনতা বেশি কিন্তু আয় বৈষম্যও বেশি, আর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উল্টো।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন