অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের GDP-তে মৎস্য খাতের অবদান নিচের তালিকায় প্রদর্শিত হলো
| ২০০৯-১০ | ২০১০-১১ | ২০১১-১২ | ২০১৩-১৪ | ২০১৮-১৯
GDP (কোটি টাকা) | ২১,৬০৭ | ২৩,০৫১ | ২৪,২৭৯ | ২৭,৪১৯ | ৩৭,১৪৬
প্রবৃদ্ধির হার (%) | ৪.৬০ | ৪.৬৯ | ৫.৩২ | ৬.৩৬ | ৬.২১
- ক)(1)
কৃষিজোত কাকে বলে?
- খ)(2)
কৃষকরা ঋণ গ্রহণ করে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপক থেকে বাংলাদেশের GDP-তে মৎস্য অবদানের লেখচিত্র অঙ্কন করো।
- ঘ)(4)
"বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের বিপুল রয়েছে"-উদ্দীপকের সাহায্যে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন কৃষকের অধীনে থাকা সমস্ত জমি, যার ওপর তিনি কৃষিকাজ পরিচালনা করেন, তাকে কৃষিজোত (Agricultural Holding) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষকরা মূলত কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং পারিবারিক দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য ঋণ গ্রহণ করে থাকেন। উৎপাদন মৌসুমে উন্নত বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ক্রয়, সেচ খরচ প্রদান এবং কৃষি যন্ত্রপাতি ভাড়া বা কেনার জন্য কৃষকের তাৎক্ষণিক নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এছাড়া আমাদের দেশের প্রান্তিক কৃষকদের নিজস্ব সঞ্চয় না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে জীবিকা নির্বাহ ও পরবর্তী ফসলের খরচ জোগাতে ঋণ গ্রহণ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক থেকে বাংলাদেশের GDP-তে মৎস্য খাতের অবদানের (কোটি টাকায়) তথ্য ব্যবহার করে একটি স্তম্ভলেখ বা রেখাচিত্র অঙ্কন করা যায়:
অঙ্কন পদ্ধতি:
১. ভূমিক্ষ বা X-অক্ষে অর্থবছর (২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১৩-১৪, ২০১৮-১৯) নির্ধারণ করি।
২. লম্বঅক্ষ বা Y-অক্ষে GDP-তে মৎস্য খাতের অবদান (কোটি টাকায়) পরিমাপ করি, যেখানে স্কেল ধরা যেতে পারে প্রতি একক = ৫,০০০ কোটি টাকা (যেমন: ০, ১০,০০০, ২০,০০০, ৩০,০০০, ৪০,০০০ কোটি টাকা)।
৩. প্রদত্ত মান অনুযায়ী বিন্দুগুলো স্থাপন করি:- ২০০৯-১০ অর্থবছরের জন্য ২১,৬০৭ কোটি টাকা সূচক বিন্দু,
- ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য ২৩,০৫১ কোটি টাকা সূচক বিন্দু,
- ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য ২৪,২৭৯ কোটি টাকা সূচক বিন্দু,
- ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ২৭,৪১৯ কোটি টাকা সূচক বিন্দু,
- ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৩৭,১৪৬ কোটি টাকা সূচক বিন্দু।
৪. প্রতিটি অর্থবছরের বিপরীতে স্তম্ভ (Bar) অঙ্কন করলে একটি স্তম্ভলেখচিত্র গঠিত হয়, অথবা বিন্দুগুলো ক্রমান্বয়ে যোগ করলে একটি ঊর্ধ্বগামী রেখাচিত্র পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে বিগত বছরগুলোতে GDP-তে মৎস্য খাতের অবদান ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের বিপুল অবদান ও সম্ভাবনা রয়েছে—উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ এবং অভ্যন্তরীণ ও সামুদ্রিক জলসীমায় বিপুল মৎস্য সম্পদের উৎস রয়েছে। উদ্দীপকের সারণি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে GDP-তে মৎস্য খাতের অবদান ছিল ২১,৬০৭ কোটি টাকা, যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৭,১৪৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সাথে প্রবৃদ্ধির হার ৪.৬০% থেকে বেড়ে ৬.২১%-এ পৌঁছেছে, যা এ খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে নির্দেশ করে।
অর্থনীতিতে এ খাতের বিপুল ভূমিকার কারণসমূহ:
১. প্রাণিজ আমিষের যোগান: দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই পূরণ করে মৎস্য খাত।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: মৎস্য আহরণ, চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
৩. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত চিংড়ি এবং অন্যান্য মাছ বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
৪. দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ উন্নয়ন: বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ফলে গ্রামীণ বেকারত্ব হ্রাস পাচ্ছে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে মৎস্য খাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্যাবলি এবং বাস্তবিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করতে মৎস্য খাতের ভূমিকা ও সম্ভাবনা অত্যন্ত ব্যাপক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও