বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: জনাব বোলানাথ একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি অসাধারণ মেধাবী। সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, ন্যায়, বেদান্ত, স্মৃতি, অলংকার ইত্যাদি বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।দৃশ্যকল্প-২: জনাব রেজাউল ইসলাম একজন দাতা। তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি এই বিশাল সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে তার নিঃসন্তান ভাইয়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তার সকল সম্পত্তি তিনি শিক্ষা বিস্তার, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, দাতব্য চিকিৎসালয়সহ জনহিতকর কাজে দান করেন।

  1. ক)

    ফরায়েজি আন্দোলন কী?

    (1)
  2. খ)

    নীল বিদ্রোহ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক-১-এর বিষয়বস্তু তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহান ব্যক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে-২-এ বর্ণিত মহান মনীষীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে"- মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    উনিশ শতকে ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলায় যে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা-ই ফরায়েজি আন্দোলন।

  2. খ)

    ইংরেজ নীলকররা বাংলার কৃষকদের উর্বর জমিতে জোর করে নীল চাষ করাত এবং দাদন নিতে বাধ্য করত। দাদনের ঋণ কখনো শোধ হতো না, আর অবাধ্য চাষিদের ওপর চরম নির্যাতন চলত। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে ১৮৫৯ সালে নীলচাষিরা যে সংঘবদ্ধ বিদ্রোহ করে, তাকে নীল বিদ্রোহ বলে। যশোর, হুগলি ও নদীয়ায় এর নেতৃত্ব দেন স্থানীয় চাষিরা। দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকে এই অত্যাচারের চিত্র ফুটে ওঠে।

  3. গ)

    উদ্দীপক-১-এর বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    বিদ্যাসাগর মাত্র একুশ বছর বয়সে সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, ন্যায়, বেদান্ত, স্মৃতি ও অলংকারে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত হন। স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে তিনি ২০টি মডেল স্কুল ও ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। উদ্দীপকের বোলানাথের অসাধারণ মেধা, একই বিষয়ে পাণ্ডিত্য এবং ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের জীবনের মিল স্পষ্ট। তিনি বিধবা বিবাহ প্রচলন ও বহুবিবাহ রোধে সংগ্রাম করে সমাজ সংস্কারক হিসেবেও খ্যাত।

  4. ঘ)

    উদ্দীপক-২-এ বর্ণিত মনীষী হাজী মুহম্মদ মহসীন, যাঁর অবদান সত্যিই চিরস্মরণীয়। সরল জীবনযাপন করেও তিনি তাঁর বিশাল সম্পত্তি মানুষের কল্যাণে দান করে গেছেন।

    ১. সম্পত্তি দান: নিঃসন্তান বোনের মৃত্যুর পর ১৮০৩ সালে তিনি বিশাল সম্পত্তির মালিক হন। অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করে ১৮০৬ সালে একটি ফান্ড গঠন করে সমস্ত সম্পত্তি জনহিতকর কাজে দান করেন, যা মহসীন ফান্ড নামে পরিচিত।
    ২. শিক্ষা বিস্তার: তিনি হুগলিতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোরের মাদ্রাসার উন্নতিতে অর্থ দেন। মহসীন ফান্ডের বৃত্তির অর্থে হাজার হাজার মুসলমান তরুণ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, যাঁদের মধ্যে সৈয়দ আমির আলিও ছিলেন।
    ৩. চিকিৎসা ও জনসেবা: ফান্ডের অর্থে হুগলি দাতব্য চিকিৎসালয়, ইমামবাড়া এবং হুগলি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মাদ্রাসা ও ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠিত হয়, যা তাঁর মৃত্যুর পরও মানুষের উপকারে এসেছে।

    সুতরাং, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দরিদ্রসেবায় তাঁর অসামান্য দানের কারণে হাজী মুহম্মদ মহসীনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন