সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
সহপাঠ প্রশ্ন
ইতিহাস বলে সম্রাট বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ূন যখন সিংহাসনে বসেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র বাইশ বছর। একদিকে অল্প বয়সে শাসনকার্যের গুরুদায়িত্ব, অন্যদিকে সিংহাসনে বসার পর থেকেই চলে নানামুখী ষড়যন্ত্র। এরকম প্রতিকৃষ্ণ পরিস্থিতিতেও যুবক শাসক হুমায়ূন সঠিকভাবে হাল ধরে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে শাসনকার্য চালিয়ে যান। হুমায়ূনের ভাইয়েরা এবং আত্মীয়স্বজন যদিও সহযোগিতার পরিবর্তে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তথাপি দুর্দান্ত প্রতাপে শক্ত হাতে সবকিছুর মোকাবিলা করেন তিনি।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা থেকে সিকান্দার আবু জাফর কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
- খ)(2)
আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়'- উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের হুমায়ুনের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে এবং কীভাবে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের হুমায়ুনের জীবনের শেষ পরিণতি আর 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মহাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের শেষ পরিণতি একরকম নয়”- মন্তব্যটির সপক্ষে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা থেকে সিকান্দার আবু জাফর 'অভিযান' নামক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়'- উক্তিটির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চারপাশের সর্বব্যাপী বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও অসহায়ত্বের দমবন্ধ করা পরিস্থিতি বোঝানো হয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই চারপাশের আত্মীয়-স্বজন ও সভাসদদের তীব্র ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হন। ঘসেটি বেগম, মীর জাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি চতুর্দিক থেকে অবরুদ্ধ বোধ করেন। কোনো দিকেই তিনি মুক্তির পথ দেখতে পাচ্ছিলেন না। তাঁর চারপাশের মানুষগুলোর ষড়যন্ত্রকে দুর্ভেদ্য দেয়ালের সাথে তুলনা করে তিনি এই তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সম্রাট হুমায়ূনের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্রাট বাবর মারা যাওয়ার পর হুমায়ূন মাত্র বাইশ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। অল্প বয়সে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই তাঁকে আত্মীয়-স্বজন ও ভাইদের বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মুখে পড়তে হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি শক্ত হাতে শাসনকাজ পরিচালনা করেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায়, আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা মাত্র তেইশ বছর বয়সে বাংলার মসনদে বসেন। সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই খালা ঘসেটি বেগম, খালাতো ভাই শওকত জঙ্গ, সেনাপতি মীর জাফর প্রমুখ নিকটাত্মীয় ও রাজন্যবর্গের তীব্র ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হন তিনি। অল্প বয়সে বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ এবং আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার এই প্রেক্ষাপটের দিক থেকে উদ্দীপকের হুমায়ূনের সাথে নাটকের সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হুমায়ুনের জীবনের শেষ পরিণতি এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের শেষ পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন— মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের মুঘল সম্রাট হুমায়ূন তাঁর ভাই ও আত্মীয়স্বজনদের নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দুর্দান্ত প্রতাপে শক্ত হাতে সমস্ত সংকট মোকাবিলা করে নিজের শাসনক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হন। তিনি শত্রুদের পরাভূত করে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন।
অপরদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ট্র্যাজিক নায়ক নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর চারপাশের কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল, দেশীয় বিশ্বাসঘাতক এবং চতুর ইংরেজদের গভীর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করতে পারেননি। পলাশীর প্রান্তরে মীর জাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তাঁর দেশপ্রেম ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নবাবের পরাজয় ঘটে। পরবর্তীকালে তিনি নির্মমভাবে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
সুতরাং দেখা যায়, হুমায়ূন ষড়যন্ত্র দমন করে সফলভাবে রাজ্যশাসন অব্যাহত রাখতে পারলেও সিরাজউদ্দৌলা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ও পরাধীনতার সূত্রপাত ঘটে। তাই উভয়ের জীবনের শেষ পরিণতি একরকম নয়— মন্তব্যটি নিঃসন্দেহে সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও