বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

অকালে বাবাকে হারিয়ে আবিদের মন ভীষণ খারাপ। বন্ধু বাতেন এসে বলল, - "তুমি তো ঘুরতে খুব পছন্দ করো, চলো নৌকায় কোথাও ঘুরে আসি। শরতের শুভ্র - জ্যোৎস্নায় দু'ধারে কাশবন, মৃদু বাতাসে নৌকার দোলা- তোমার মন ভালো হয়ে - যাবে।” জবাবে আবিদ বলল, "নির্মল জলে রূপালি চাঁদ কোনো কিছুতে আর মন নেই বন্ধু। আমার সব ভালো লাগা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।"

  1. ক)

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির নীরবতার কারণ কী?

    (1)
  2. খ)

    কবিতার কবির ব্যক্তি জীবন কীভাবে ধরা পড়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বাতেন 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? উভয়ের ভূমিকার তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "আবিদের জবাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলবক্তব্যই প্রতিধ্বনিত হয়েছে"- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির নীরবতার কারণ হলো তাঁর স্বামী ও কাব্যসাধনার প্রেরণা-পুরুষ সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুজনিত গভীর শোক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের এক মর্মান্তিক শোকাবহ ঘটনা পরোক্ষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    কবির প্রথম স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন ছিলেন তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রধান উৎসাহদাতা ও অনুপ্রেরণাদায়ী। ১৯৩২ সালে তাঁর অকালমৃত্যু কবিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও শোকাচ্ছন্ন করে তোলে। বসন্তের মনোরম প্রকৃতিতেও কবি যে উদাসীন ও রিক্ততায় আচ্ছন্ন থাকেন এবং কোনোভাবেই প্রকৃতির সৌন্দর্য তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না—এর কারণ কবির ব্যক্তিগত জীবনের সেই গভীর বিষাদ ও শূন্যতাবোধ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বাতেন 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার 'কবিভক্ত'-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    উভয়ের ভূমিকাই হলো বিষাদগ্রস্ত ও শোকাচ্ছন্ন ব্যক্তিকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের সান্নিধ্যে এনে মানসিক প্রশান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবিভক্ত কবিকে বসন্তের আগমনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং পুষ্পসাজ ও কবিতা রচনার মাধ্যমে বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার অনুরোধ জানান। কবিভক্তের লক্ষ্য ছিল কবিকে তাঁর বিষাদময় নীরবতা থেকে জাগিয়ে প্রকৃতি ও সৃষ্টির আনন্দলোকে ফিরিয়ে আনা। অনুরূপভাবে, উদ্দীপকে বন্ধু বাতেন অকালে পিতৃহারা আবিদের গভীর দুঃখ দূর করার জন্য শরতের কাশবন, শুভ্র জ্যোৎস্না ও নৌভ্রমণের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে নিয়ে গিয়ে তার মন ভালো করার উদ্যোগ নেয়। সুতরাং শোকার্ত মনের কষ্ট লাঘবে প্রকৃতির সুষমাকে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে কবিভক্ত ও বাতেনের ভূমিকা একই সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "আবিদের জবাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলবক্তব্যই প্রতিধ্বনিত হয়েছে"—উক্তিটি যথার্থ।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল বক্তব্য হলো—আপনজনের বিয়োগজনিত শোকের কাছে প্রকৃতির অফুরন্ত রূপ-লাবণ্যও অর্থহীন ও নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। বাহ্যিক প্রকৃতির বসন্তোৎসবও কবির অন্তরের তীব্র রিক্ততা ও হাহাকারকে মোচন করতে পারে না।

    উদ্দীপকের আবিদ তার বাবাকে অকালে হারিয়ে গভীর মানসিক আঘাতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্ধু বাতেন তাকে শরতের জ্যোৎস্না ও কাশফুলের সৌন্দর্যের মাঝে নিয়ে মন ভালো করার প্রস্তাব দিলে আবিদ স্পষ্ট জানায় যে, নির্মল জল বা রূপালি চাঁদ কোনো কিছুতেই তার আর মন নেই; তার পৃথিবী থেকে সব আনন্দ ও ভালো লাগা চিরতরে বিদায় নিয়েছে।

    কবিতায় সুফিয়া কামালও একইভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, চারপাশে প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য ও ফাগুনের সমারোহ থাকা সত্ত্বেও তাঁর মন প্রিয়জনের হারানোর শোকে আচ্ছন্ন। আবিদের উত্তরে যে গভীর রিক্ততা, শোক এবং সৌন্দর্যের প্রতি নিরাসক্তি প্রকাশ পেয়েছে, তা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার শোকাহত মনের ভাবসত্য ও মূল বক্তব্যকেই সম্পূর্ণভাবে ধারণ ও প্রতিধ্বনিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন