জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রগুলি লক্ষ করো এবং প্রশ্নের উত্তর দাও :

- ক)(1)
সাইনুসাইটিস কী?
- খ)(2)
ডিম্বাশয় চক্র বলতে কী বোঝ ?
- গ)(3)
চিত্রের "P" অংগ গঠনকারী পেশির বৈশিষ্ট্য লিখ ।
- ঘ)(4)
চিত্রের "Q" ও "R" অঙ্গের অন্তঃকংকাল কি একই প্রকৃতির? বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্যারানাসাল সাইনাসের মিউকাস পর্দার প্রদাহকে সাইনুসাইটিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রে বয়ঃসন্ধিকালের পর থেকে প্রতি ২৮ দিন পর পর ডিম্বাশয়ে চক্রাকারে ডিম্বাণু উৎপাদন, ফলিকলের বৃদ্ধি ও হরমোন নিঃসরণের যে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ঘটে, তাকে ডিম্বাশয় চক্র (Ovarian cycle) বলে। এই চক্রটি মূলত ফলিকুলার দশা, ডিম্বপাত (ওভুলেশন) এবং লুটিয়াল দশা—এই তিনটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত। এটি পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত FSH ও LH হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-P অঙ্গটি হলো হৃদপিণ্ড (Heart)। হৃদপিণ্ডের প্রাচীর গঠনকারী পেশিকে কার্ডিয়াক পেশি বা হৃদপেশি (Cardiac muscle) বলে। নিচে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো:
১. গঠন: হৃদপেশির কোষগুলো নলাকার, শাখাপ্রশাখা যুক্ত এবং এদের কোষে অনুপ্রস্থ রেখা বা স্ট্রায়েশন উপস্থিত থাকে।
২. নিউক্লিয়াস: প্রতি কোষে সাধারণত একটি ডিম্বাকার ও সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস কেন্দ্রে অবস্থিত থাকে।
৩. ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক: দুটি পাশাপাশি অবস্থিত হৃদপেশি কোষের সংযোগস্থলে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক (Intercalated disc) উপস্থিত থাকে, যা এই পেশির অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য।
৪. অনৈচ্ছিক প্রকৃতি: হৃদপেশির কার্যকারিতা প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও ছন্দোময়ভাবে সংকোচন-প্রসারণশীল।
৫. ক্লান্তিহীনতা: হৃদপেশি সারাজীবন অবিশ্রান্তভাবে কাজ করে এবং কখনো ক্লান্ত হয় না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-Q অঙ্গটি হলো মানুষের বহিকর্ণ বা পিনা এবং চিত্র-R হলো মানবদেহের বাহু। অঙ্গ দুটির অন্তঃকঙ্কাল একই প্রকৃতির নয়; নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
চিত্র-Q অর্থাৎ বহিকর্ণের (পিনা) অন্তঃকঙ্কাল মূলত 'তরুণাস্থি' (Cartilage) বা কার্টিলেজ দ্বারা গঠিত, যা স্থিতিস্থাপক বা পীত-তন্তুময় তরুণাস্থির অন্তর্গত। অন্যদিকে, চিত্র-R অর্থাৎ বাহুর অন্তঃকঙ্কাল শক্ত ও অনমনীয় 'অস্থি' (Bone) দ্বারা গঠিত, যেমন— হিউমেরাস, রেডিয়াস ও আলনা।
অস্থি ও তরুণাস্থির মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ:
১. কাঠিন্য ও নমনীয়তা: তরুণাস্থি তুলনামূলক নরম, নমনীয় এবং স্থিতিস্থাপক। কানকে সহজে বাঁকানো যায়। অপরদিকে অস্থি অত্যন্ত দৃঢ়, শক্ত ও অনমনীয়, যা বাহুকে নির্দিষ্ট আকার ও ভার বহনের ক্ষমতা দেয়।
২. ম্যাট্রিক্সের উপাদান: তরুণাস্থির ম্যাট্রিক্সে কনড্রিন নামক প্রোটিন থাকে এবং এতে ক্যালসিয়াম লবণের পরিমাণ কম থাকে। অন্যদিকে অস্থির ম্যাট্রিক্সে ওসিন নামক জৈব উপাদান এবং প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ফসফেট ও ক্যালসিয়াম কার্বনেট সঞ্চিত থাকে।
৩. কোষীয় গঠন: তরুণাস্থির কোষগুলোকে কনড্রোসাইট বলে এবং এগুলো ল্যাকুনার মধ্যে ১-৪টি করে গুচ্ছাকারে থাকে। অস্থির কোষগুলোকে অস্টিওসাইট বলে এবং প্রতি ল্যাকুনায় কেবল একটি করে কোষ অবস্থান করে।
৪. হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র: তরুণাস্থিতে কোনো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র থাকে না, কিন্তু স্তন্যপায়ীর নিরেট অস্থিতে সুনির্দিষ্ট হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বা অস্টিওন উপস্থিত থাকে।
৫. আবরণী: তরুণাস্থির আবরণীকে পেরিকনড্রিয়াম এবং অস্থির আবরণীকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।সুতরাং, গঠনগত বৈশিষ্ট্য, উপাদান ও শারীরবৃত্তীয় কাজের দিক থেকে চিত্র-Q (তরুণাস্থি) এবং চিত্র-R (অস্থি)-এর অন্তঃকঙ্কাল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও