হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সীমা কিছুদিন থেকে হাঁটতে অসুবিধা বোধ করেছে। পা কাঁপে ও শরীর দুর্বল লাগে। সে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেন, তার ধমনীতে হলদে চর্বি জাতীয় পদার্থ জমেছে, তাকে একটি আসন অনুশীলনের পরামর্শ দেন। যা নিয়মিত করলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।

  1. ক)

    অহিংসা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রাণায়ামকে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সীমার অনুশীলনকৃত আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সীমার অনুশীলনকৃত আসনটির প্রভাব পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মন, কথা ও কর্ম দ্বারা কোনো প্রাণীকে কষ্ট না দেওয়াকে অহিংসা বলে।

  2. খ)

    প্রাণায়াম বলতে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ ও নিজ আয়ত্তে আনা বোঝায়। এতে পূরক (শ্বাস গ্রহণ), কুম্ভক (শ্বাস ধারণ) ও রেচক (শ্বাসত্যাগ) এই তিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে, গভীরভাবে ও ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস নেওয়া হয়। এতে শ্বসনতন্ত্র বলিষ্ঠ হয়, স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে এই পদ্ধতিগত নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই প্রাণায়ামকে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা হয়।

  3. গ)

    সীমার ধমনীতে হলদে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা, পা কাঁপা ও শরীর দুর্বল লাগার সমস্যায় ডাক্তার যে আসনের পরামর্শ দিয়েছেন তা বৃক্ষাসন।

    বৃক্ষাসনের ধারণা: এই আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের মতো দেখায় বলে একে বৃক্ষাসন বলে।

    অনুশীলন পদ্ধতি:
    ১. প্রথমে দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। পায়ের পাতা মাটিতে সমানভাবে লেগে থাকবে।
    ২. এবার ডান পা হাঁটুতে ভেঙে গোড়ালি বাঁ ঊরুমূলে রাখতে হবে। পায়ের পাতা ঊরুর সাথে লেগে থাকবে এবং আঙুলগুলো নিচের দিকে ফেরানো থাকবে। এখন শুধু বাঁ পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে।
    ৩. নমস্কারের ভঙ্গিতে দুই হাতের তালু জোড়া করে বুকের কাছে আনতে হবে। তারপর তালু জোড়া রেখে হাত দুটি সোজা মাথার ওপর তুলতে হবে।
    ৪. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে নিশ্চল হয়ে ১০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর হাত নামিয়ে ডান পা সোজা করে আগের মতো দাঁড়াতে হবে।
    ৫. একইভাবে ডান পায়ে দাঁড়িয়ে বাঁ পা ডান ঊরুমূলে রেখে আসনটি করতে হবে।
    ৬. শেষে শবাসনে ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে। এটি একবার। এভাবে তিনবার করতে হবে। অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে সময় ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

  4. ঘ)

    সীমার অনুশীলনকৃত আসনটি বৃক্ষাসন। ডাক্তারের পরামর্শমতো নিয়মিত অনুশীলন করলে সীমা সুস্থ হয়ে উঠবে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ আসনের প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    যোগসাধনায় আসন অনুশীলনের মাধ্যমে দেহ ও মন সুস্থ ও সবল হয়। বৃক্ষাসন বিশেষ করে পা ও শরীরের ভারসাম্যের জন্য উপকারী।

    ১. হাত-পা কাঁপা ও দুর্বলতা দূর করে: যাঁদের হাত-পা কাঁপে এবং পা দুর্বল, তাঁদের এ আসনে খুব উপকার হয়। উদ্দীপকে সীমা ঠিক এই সমস্যাতেই ভুগছিল। এতে পায়ে জোর পাওয়া যায় এবং চলাফেরার ক্ষমতা বাড়ে।

    ২. ধমনীতে চর্বি জমা রোধ করে: রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের কারণে পায়ের ধমনীতে যে শক্ত হলদে চর্বিজাতীয় পদার্থ (আথেরোমা) জমে, বৃক্ষাসন তা রোধ করে। ফলে থ্রম্বোসিস হতে পারে না। সীমার ধমনীর সমস্যার সমাধানে এটিই সরাসরি কার্যকর।

    ৩. পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রের উপকার: পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে। হাঁটু, কনুই ও বগলের স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং গ্রন্থিগুলো সবল ও নমনীয় হয়। পায়ে ব্যথা বা বাত হয় না।

    ৪. ভারসাম্য ও মেরুদণ্ড: শরীরের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতা বাড়ে এবং কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়। হাত-পায়ের গঠনও সুষ্ঠু হয়।

    সুতরাং, বৃক্ষাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে সীমার দুর্বলতা ও কাঁপুনি কমবে, ধমনীর সমস্যা প্রতিরোধ হবে এবং তার শরীর সুস্থ ও সবল হয়ে উঠবে। তবে কোনো গুরু বা যোগীর নিকট থেকে আসন শিখে অনুশীলন করা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন