উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

অংসিং ও তংসিং দু’ভাই কাঁকড়া ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। অংসিং ছোট ছোট কাঁকড়ার বাচ্চা ক্রয় করে সেগুলোকে তিনমাস লালন-পালনের মাধ্যমে বড় করে চীনে রপ্তানি করে। তংসিং কক্সবাজার ও খুলনা অঞ্চলের বাজার থেকে ‘মা’ কাঁকড়া ক্রয় করে প্রজননের মাধ্যমে বাচ্চা কাঁকড়া উৎপাদন করে। উৎপাদিত বাচ্চা কাঁকড়া দেশের অভ্যন্তরে বিভিনড়ব খামারীদের নিকট বিক্রি করে।

  1. ক)

    সরকারি বাজার কী?

    (1)
  2. খ)

    “ভোক্তাই বিপণন মিশ্রণের কেন্দ্রবিন্দু” ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তংসিং কোন বাজারের ক্রেতা? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দেশের অর্থনৈতিক উনড়বয়নে কার ভ‚মিকা বেশি বলে তুমি মনে কর? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা জনগণের সেবামূলক কাজ সম্পাদনের উদ্দেশ্যে গঠিত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভাগ যে বাজার থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করে, তাকে সরকারি বাজার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিপণন মিশ্রণ (পণ্য, মূল্য, স্থান ও প্রসার) তৈরির মূল উদ্দেশ্যই হলো ভোক্তা বা ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করা, তাই ভোক্তাই এর কেন্দ্রবিন্দু।

    ভোক্তার প্রয়োজন, পছন্দ, ক্রয়ক্ষমতা এবং সুবিধার ওপর ভিত্তি করেই সঠিক পণ্য ডিজাইন করা হয়, তার উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়, সহজলভ্য স্থানে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয় এবং কার্যকর প্রসারমূলক কার্যক্রম চালানো হয়। ভোক্তাকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হলে বিপণনের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয় না। তাই সব বিপণন কর্মকাণ্ড ভোক্তাকে ঘিরে আবর্তিত হয় বলে ভোক্তাকে বিপণন মিশ্রণের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তংসিং হলেন ‘শিল্প বাজার’ বা ‘উৎপাদক বাজার’-এর ক্রেতা।

    যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ভোগের জন্য নয়, বরং পুনরায় প্রক্রিয়াজাতকরণ, রূপান্তর বা নতুন পণ্য উৎপাদনের উদ্দেশ্যে কাঁচামাল বা উপকরণ ক্রয় করে, তাদের নিয়ে গঠিত বাজারকে শিল্প বা উৎপাদক বাজার বলে।

    উদ্দীপকে তংসিং বাজার থেকে ‘মা’ কাঁকড়া ক্রয় করেন পুনরায় নতুন বাচ্চা কাঁকড়া উৎপাদনের জন্য। তিনি কাঁকড়া নিজে খাওয়ার জন্য বা সরাসরি বিক্রির জন্য কেনেননি, বরং প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন পণ্য উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে ক্রয় করেছেন। তাই ক্রেতার ধরন ও ক্রয়ের উদ্দেশ্য অনুযায়ী তংসিং শিল্প বাজারের ক্রেতা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংসিং ও তংসিং উভয়ের ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ হলেও সার্বিক বিবেচনায় এবং সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে অংসিং-এর ভূমিকা বেশি বলে মনে করি, তবে দেশীয় উৎপাদন শৃঙ্খলে তংসিং-এর ভূমিকাও অনস্বীকার্য।

    অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত করা যেমন দরকার, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করাও অত্যন্ত জরুরি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তংসিং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঁকড়ার বাচ্চার জোগান দেন, যা স্থানীয় খামারিদের নির্ভরশীলতা বাড়ায় এবং মৎস্য ও মৎস্যজাত শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শক্তিশালী করে। অন্যদিকে, অংসিং কাঁকড়া লালন-পালন করে বড় করে চীনে রপ্তানি করেন। এর ফলে সরাসরি মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি ঘটায়, বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি করে।

    একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও রপ্তানিমুখী খাতের সম্প্রসারণ অত্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেশীয় শিল্পের বিকাশে তংসিং অবদান রাখলেও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংসিং-এর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন