ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

জাবিদ আল্লাহ তায়ালার ভয়ে প্রকাশ্যে ও গোপনে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকে। সে মনে করে আল্লাহ সবকিছু জানেন ও দেখেন। অন্যদিকে জাবিদের বন্ধু আসিফ তাকে কিছু টাকা ধার দেয়ার জন্য বলে। আসিফ কথামত টাকা ধার নিয়ে যথাসময়ে তা ফেরত দেয়। এমনকি কোনো প্রতিজ্ঞা করলেও তা পূরণ করে। কেননা আসিফ জানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো। কেননা যারা প্রতিশ্রুতি পালন করে না, তাদের দীন নেই।

  1. ক)

    আখলাকে হামিদা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    হিংসার কুফল ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জাবিদের কর্মকান্ডে আখলাকে হামিদার কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আসিফের কর্মকাণ্ড চিহ্নিতপূর্বক কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মানুষের উত্তম ও প্রশংসনীয় চরিত্রকে আখলাকে হামিদা বলে।

  2. খ)

    হিংসা হলো অন্যের সুখ, সম্পদ বা সফলতা দেখে অন্তরে জ্বালা অনুভব করা এবং তার ক্ষতি কামনা করা। হিংসার কুফল অনেক। হিংসুক ব্যক্তির মনে সবসময় অশান্তি থাকে এবং সে নিজেই কষ্ট পায়। হাদিসে আছে, আগুন যেমন কাঠকে খেয়ে ফেলে, হিংসা তেমনি নেক আমলকে নষ্ট করে দেয়। হিংসা থেকে শত্রুতা, ঝগড়া ও সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    জাবিদের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদার তাকওয়া বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

    তাকওয়া অর্থ আল্লাহর ভয়ে সব ধরনের অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর বিধান অনুযায়ী চলা। জাবিদ আল্লাহর ভয়ে প্রকাশ্যে ও গোপনে সব পাপ থেকে দূরে থাকে এবং বিশ্বাস করে আল্লাহ সবকিছু জানেন ও দেখেন। আল্লাহর সর্বদা দেখার এই অনুভূতিই তাকওয়ার মূল ভিত্তি। তাই জাবিদের মধ্যে তাকওয়ার গুণ প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    আসিফের কর্মকাণ্ড হলো ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি পালন (ইফায়ে আহদ) ও আমানত রক্ষা। সে ধার নেওয়া টাকা যথাসময়ে ফেরত দেয় এবং কোনো প্রতিজ্ঞা করলে তা পূরণ করে।

    কুরআনের আলোকে: আল্লাহ বলেন, "তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো, কেননা অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" (সূরা বনি ইসরাইল, ১৭:৩৪)

    হাদিসের আলোকে: রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, "যার আমানতদারি নেই, তার ইমান নেই এবং যার প্রতিশ্রুতি রক্ষা নেই, তার দীন নেই।" (মুসনাদে আহমদ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বাক্যটিও এই শিক্ষাই দেয়। অন্য হাদিসে ওয়াদা ভঙ্গ করাকে মুনাফিকের লক্ষণ বলা হয়েছে।

    গুরুত্ব:
    ১. ওয়াদা পালনে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হয়।
    ২. এটি সমাজে শান্তি ও লেনদেনে স্বচ্ছতা আনে।
    ৩. এটি ইমানের পূর্ণতার লক্ষণ।

    সুতরাং, আসিফ কুরআন ও হাদিসের নির্দেশ পালন করে একজন আদর্শ মুমিনের পরিচয় দিয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন