বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নৌকাডুবিতে নিহত বাবা-মা'র একমাত্র কন্যা সখিনা ফুফুর কাছে আশ্রয় নেয়। বড় হলে বিয়ে হয় এক পরিবহন শ্রমিকের সাথে। মাতাল স্বামী মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে নানা ছলছুতোয় অত্যাচার করে। অত্যাচারের মাত্রা ক্রমশ বেড়ে গেলে সখিনা একদিন পালাতে যেয়ে ঘটনাক্রমে আবার ফুফুর কাছে ফিরে আসে। ফুফুও পরম যত্নে আগলে রাখে। মাতাল স্বামী এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের কুনজর থেকে রক্ষার জন্য ফুফু মাঝে-মধ্যেই অগ্নিমূর্তি ধারণ করে।

  1. ক)

    চায়ের দোকানে জগুর সাথে কার দেখা হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    "সারাটা দিন গেছে লড়ে আর লড়ে"—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সখিনার সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র কোনটি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের ফুফু এবং মাসি-পিসি গল্পের মাসি-পিসি অভিন্ন"—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চায়ের দোকানে জগুর সাথে কানাই চৌধুরীর দেখা হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "সারাটা দিন গেছে লড়ে আর লড়ে" কথাটি দিয়ে মাসি ও পিসির জীবন বাঁচানোর জন্য সারাদিনের প্রাণান্তকর সংগ্রামের বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে।

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাসি-পিসি' গল্পে স্বামীহারা ও বিধবা মাসি-পিসি তাদের একমাত্র আশ্রয় ও স্নেহের পাত্রী আহ্লাদিকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। জীবিকা নির্বাহের জন্য তারা শাকসবজি বিক্রি করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে নানা কুনজর ও সামাজিক নিপীড়কদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকে। সারাদিনের সেই কঠোর শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম এবং আত্মরক্ষার সংগ্রাম বোঝাতেই মাসি এই উক্তিটি করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সখিনার সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের নির্যাতিতা ও অসহায় নারী 'আহ্লাদি' চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

    'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, কলেরা মহামারীতে আহ্লাদির বাবা, মা ও ভাই মারা যাওয়ার পর সে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও পিতৃহীন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তার স্বামী জগু ছিল অত্যন্ত অত্যাচারী ও মাতাল স্বভাবের। সে যৌতুকের জন্য আহ্লাদির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাত। স্বামীর পাশবিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আহ্লাদি তার মাসি ও পিসির স্নেহের আশ্রয়ে চলে আসে। মাসি-পিসি নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহ্লাদিকে পরম যত্নে রক্ষা করে।

    উদ্দীপকের সখিনাও নৌকাডুবিতে বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে ফুফুর কাছে আশ্রয় পায়। পরবর্তীতে এক মাতাল পরিবহন শ্রমিকের সাথে বিয়ে হলে সে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সে আবার ফুফুর আশ্রয়ে ফিরে আসে এবং ফুফু তাকে সমাজ ও স্বামীর হাত থেকে রক্ষা করে। জীবনের এই মর্মান্তিক পরিণতি, পিতৃহীনতা এবং মাতাল স্বামীর নির্যাতনের দিক থেকে উদ্দীপকের সখিনা চরিত্রটি 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ফুফু এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি চারিত্রিক দৃঢ়তা, স্নেহশীল অভিভাবকত্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতায় একই সূত্রে গাঁথা—তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, মাতৃহীন আহ্লাদিকে রক্ষা করার জন্য তার বিধবা মাসি ও পিসি অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে। তারা কেবল আহ্লাদিকে আশ্রয়ই দেয়নি, বরং তার মাতাল স্বামী জগু এবং গ্রামের প্রভাবশালী কুনজরধারী গোকুল ও কানাইদের হাত থেকে আহ্লাদিকে রক্ষায় বঁটি হাতে রুখে দাঁড়িয়েছে। আহ্লাদির প্রতি তাদের গভীর অপত্য স্নেহ ও সাহসী প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা গল্পটির মূল উপজীব্য।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, সখিনার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর ফুফু তাকে পরম যত্নে বড় করেন। পরবর্তীতে সখিনা মাতাল স্বামীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ফুফুর কাছে পালিয়ে এলে ফুফু তাকে পুনরায় সস্নেহে আশ্রয় দেন। শুধু তাই নয়, মাতাল স্বামী এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও কুদৃষ্টিসম্পন্ন সমাজের অন্যায় আগ্রাসন থেকে সখিনাকে রক্ষা করতে ফুফু প্রয়োজনে অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন, অর্থাৎ আপসহীন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

    সুতরাং দেখা যায়, অসহায় মেয়েটিকে সন্তানের মতো আগলে রাখা, স্নেহ-ভালোবাসা দেওয়া এবং সমাজ ও অত্যাচারী স্বামীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরক্ষার ঢাল তৈরি করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের ফুফু এবং গল্পের মাসি-পিসির ভূমিকা একেবারেই অভিন্ন। তাই প্রশ্নের মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন