অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সে একটি সেমিনার থেকে জানতে পারে বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও খাদ্য ঘাটতির দেশ। খাদ্যের জন্য প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণে ভর্তুকি দিচ্ছে। আশার কথা হলো বাংলাদেশে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং খাদ্য ঘাটতি কমছে।
- ক)(1)
উফশী প্রযুক্তি কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের সম্ভবনা কতটুকু ?
- গ)(3)
বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপসমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
খাদ্যে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত? উদ্দীপকের ভিত্তিতে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উফশী (উচ্চ ফলনশীল) প্রযুক্তি বলতে নিয়ন্ত্রিত সেচ, উন্নত বীজ ও সুষম রাসায়নিক সার-কীটনাশক ব্যবহারের সমন্বিত আধুনিক কৃষি উৎপাদন পদ্ধতিকে বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উন্নত প্রযুক্তি, উফশী বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার বিস্তার এবং কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কৃষি গবেষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় খরা, লবণাক্ততা ও বন্যা সহনশীল জাত উদ্ভাবিত হচ্ছে। সরকার সার, বীজ ও বিদ্যুতে নিয়মিত ভর্তুকি প্রদান করছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজি উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে। উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, আধুনিক বাজারজাতকরণ এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি সঠিকভাবে মোকাবিলা করা গেলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতেই টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ঘাটতি দূর করার চেষ্টা করছে এবং এ লক্ষ্যে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণে ভর্তুকি দিচ্ছে।
বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি দূরীকরণে সরকারের গৃহীত মূল পদক্ষেপগুলো হলো:
১. কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদান: সরকার কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপিসহ সব ধরনের রাসায়নিক সারে এবং সেচের জন্য বিদ্যুৎ ও ডিজেলে বিপুল পরিমাণ নগদ ভর্তুকি প্রদান করছে।
২. উন্নত বীজ ও উফশী জাতের বিস্তার: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)-এর মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল বীজের উদ্ভাবন ও বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
৩. কীটনাশক ও বালাই ব্যবস্থাপনা: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
৪. সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ: কৃষকদের সময়মতো উপকরণ কেনার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুলভ সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এসব সরকারি পদক্ষেপের ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং খাদ্য ঘাটতি হ্রাস পাচ্ছে, যা উদ্দীপকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্যে দ্রুত ও টেকসই স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বর্তমান ভর্তুকি নীতি ও চিরাচরিত ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিমোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা জরুরি:
১. গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অধিক মাত্রায় লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা সহনশীল ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে কৃষি গবেষণায় বাজেট বাড়াতে হবে।
২. কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকায়ন: বীজ বপন, রোপণ থেকে শুরু করে ফসল কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টার ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর সর্বোচ্চ সহায়তা ও ভর্তুকি দিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ: উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত সংরক্ষণাগারের অভাবে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য ও শাকসবজি নষ্ট হয়। আধুনিক সাইলো এবং হিমাগার স্থাপন করে ফসলোত্তর অপচয় রোধ করা অপরিহার্য।
৪. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও বাজারজাতকরণ: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যশস্য ক্রয়ের ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যাতে কৃষক উৎপাদনে উৎসাহিত হয়।
৫. ফসলের বহুমুখীকরণ ও পুষ্টিনিরাপত্তা: কেবল ভাতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে গম, ডাল, তেলবীজ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা বাড়ানো দরকার।পরিশেষে বলা যায়, সার ও কীটনাশকে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক যান্ত্রিকীকরণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গবেষণা বৃদ্ধিতে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও