বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

'ক' অঞ্চলের শাসকের মৃত্যুর পর প্রচণ্ড অরাজকতা দেখা দেয়। এতে আশেপাশের অঞ্চলের প্রভাবশালী শাসকবর্গ প্রতিবেশী দুর্বল অঞ্চলগুলো দখল করে নেয়। দীর্ঘদিন অঞ্চলগুলোতে এই অবস্থা চলে। এ অরাজকতা থেকে মুক্তি পেতে উত্ত অঞ্চলের অধিবাসীগণ এক যোগ্য ব্যক্তিকে শাসনক্ষমতা অর্পণ করেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং দীর্ঘদিন তার বংশধরগণ ঐ অঞ্চলের শাসন পরিচালনা করেন।

  1. ক)

    ধর্মপাল কত বছর রাজত্ব করেন?

    (1)
  2. খ)

    ইতিহাসে 'ত্রি' শক্তির সংঘর্ষ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ঘটনাটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসকের বংশধরগণই প্রাচীন বাংলার দীর্ঘতম রাজবংশের প্রতিনিধিত্ব করে" পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পাল বংশের শাসক ধর্মপাল ৩২ বছর রাজত্ব করেন।

  2. খ)

    প্রাচীন ভারতে কনৌজের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তিনটি শক্তির মধ্যে দীর্ঘ লড়াই হয়েছিল। শক্তি তিনটি হলো বাংলার পাল, উত্তর-পশ্চিম ভারতের গুর্জর-প্রতিহার এবং দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট। এই তিন শক্তির মধ্যে সংঘর্ষকে ইতিহাসে ‘ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ’ বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটি প্রাচীন বাংলার মাৎস্যন্যায় ও গোপালের রাজা নির্বাচিত হওয়ার ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। শক্তিশালী প্রতিবেশীরা দুর্বল অঞ্চল দখল করতে থাকে এবং বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন ভেঙে পড়ে। এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। অরাজকতা থেকে মুক্তি পেতে বাংলার প্রধানরা মিলিত হয়ে গোপালকে রাজা নির্বাচিত করেন। তিনি শান্তি ফিরিয়ে আনেন এবং পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শাসক পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাঁর বংশধরগণই প্রাচীন বাংলার দীর্ঘতম রাজবংশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন—বক্তব্যটি যথার্থ।

    ১. দীর্ঘ শাসনকাল: গোপালের পর ধর্মপাল, দেবপাল, মহীপাল প্রমুখ পাল রাজারা প্রায় চারশো বছর বাংলা শাসন করেন।
    ২. শক্তি ও সম্প্রসারণ: ধর্মপাল ও দেবপালের সময়ে পাল সাম্রাজ্য উত্তর ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
    ৩. সংস্কৃতি ও শিক্ষার বিকাশ: পালরা বৌদ্ধধর্ম, শিল্প ও শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করেন। সোমপুর মহাবিহার ও বিক্রমশীলা বিহারের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

    সুতরাং, পাল বংশই প্রাচীন বাংলার দীর্ঘতম ও গৌরবময় রাজবংশ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন