ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
নিরক্ষীয় জলবায়ু কাকে বলে?
- খ)(2)
বনভূমি কীভাবে জলবায়ুকে প্রভাবিত করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' জলবায়ু ও 'গ' জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সারা বছর অধিক উত্তাপ ও অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত যে জলবায়ু দেখা যায়, তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বনভূমি কোনো অঞ্চলের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছপালা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাতাসে জলীয় বাষ্প নির্গমন করে, যা মেঘ সৃষ্টি ও বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে। এছাড়া ঘন বনভূমির কারণে সূর্যের আলো সরাসরি মাটিতে পৌঁছাতে পারে না এবং বাতাস শীতল থাকে। ফলে বনভূমি সংলগ্ন অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া দেখা যায় না বরং একটি আর্দ্র ও মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে অক্ষীয় বিস্তৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় 'ক' অঞ্চলটি নিরক্ষরেখার উত্তরে উপক্রান্তীয়/ক্রান্তীয় অঞ্চলের (সাধারণত ৩০° থেকে ৬০° বা নাতিশীতোষ্ণ বলয়ের অংশ) কাছাকাছি অবস্থিত। চিত্রে 'গ' হলো নিরক্ষীয় অঞ্চল (০°), 'ক' হলো মধ্য-অক্ষাংশীয় বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল (৩০°-৬০° উত্তর) এবং 'খ' হলো শীতল/মেরুপ্রায় অঞ্চল (৬০°-৮০° উত্তর)।
'ক' অর্থাৎ উষ্ণ-নাতিশীতোষ্ণ/নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. তাপমাত্রা: এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল মৃদু উষ্ণ এবং শীতকাল মৃদু শীতল হয়। চরমভাবাপন্নতা সাধারণত কম থাকে।
২. ঋতু পরিবর্তন: এখানে স্পষ্ট চারটি ঋতু (গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত) পরিলক্ষিত হয়।
৩. বৃষ্টিপাত: পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে এ অঞ্চলে সাধারণত সারা বছরই মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হয়। তবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মহাদেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
৪. বায়ুপ্রবাহ: এই অঞ্চলের আবহাওয়া প্রধানত পশ্চিমা বায়ু ও ঘূর্ণিবাতাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে অক্ষাংশের অবস্থান অনুসারে 'খ' হলো ৬০° থেকে ৮০° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত তুন্দ্রা বা মেরুপ্রায় চরম শীতল জলবায়ু অঞ্চল এবং 'গ' হলো ০° অক্ষাংশ সংলগ্ন নিরক্ষীয় অতিবৃষ্টি ও উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল। এদের মধ্যকার বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. তাপমাত্রা: 'গ' নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় উষ্ণতা বেশি থাকে এবং বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৭° সে.। অন্যদিকে, 'খ' মেরুপ্রায় অঞ্চলে সূর্য তির্যকভাবে কিরণ দেওয়ায় অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে এবং তীব্র শীত বিরাজ করে।
২. বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত: 'গ' অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন প্রক্রিয়ায় প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটে (বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০০-২৫০ সেমি)। বিপরীতে, 'খ' অঞ্চলে বায়ুতে জলীয় বাষ্প কম থাকায় তরল বৃষ্টিপাত অতি সামান্য হয় এবং মূলত তুষারপাত ঘটে।
৩. ঋতুভেদ: 'গ' অঞ্চলে সারা বছর তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত প্রায় একই রকম থাকায় কোনো স্পষ্ট শীতকাল বা ঋতু পরিবর্তন অনুভূত হয় না। অপরপক্ষে, 'খ' অঞ্চলে প্রায় ৮-৯ মাস দীর্ঘ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন শীতকাল এবং মাত্র ২-৩ মাসের স্বল্পস্থায়ী গ্রীষ্মকাল থাকে।
৪. আর্দ্রতা ও বায়ুর চাপ: 'গ' অঞ্চলটি নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের অন্তর্গত এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ খুব বেশি। কিন্তু 'খ' অঞ্চলটি উপমেরু নিম্নচাপ ও মেরুদেশীয় উচ্চচাপের প্রভাবাধীন অত্যন্ত শুষ্ক ও শীতল বায়ুর অঞ্চল।
সুতরাং, অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে 'খ' অঞ্চলটি বরফাচ্ছন্ন ও চরম শীতল জলবায়ুর অন্তর্গত, অন্যদিকে 'গ' অঞ্চলটি সারা বছর উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও