ভূগোল এবং পরিবেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

  1. ক)

    পরিবেশ কাকে বলে

    (1)
  2. খ)

    বনভূমিতে বায়ু তুলনামূলকভাবে শীতল হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-১ এর বায়ুপ্রবাহের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-২ এবং ৩ এর বৃষ্টিপাত দুইটি কি একই প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মানুষকে ঘিরে থাকা সকল অবস্থার যোগফলকে, অর্থাৎ যেসব জড় ও জীব উপাদান এবং সামাজিক অবস্থা দ্বারা আমরা পরিবেষ্টিত, সেগুলোর সমষ্টিকে পরিবেশ বলে।

  2. খ)

    গাছপালা প্রস্বেদন (Transpiration) ও বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বায়ুতে জলীয়বাষ্প যোগ করে, যা বায়ুকে আর্দ্র ও স্নিগ্ধ রাখে। এছাড়া বনভূমিতে ঘন গাছের ছাউনির কারণে সূর্যালোক সরাসরি মাটিতে পৌঁছাতে পারে না। ফলে ভূমি কম উত্তপ্ত হয় এবং সেখানকার বায়ু তুলনামূলকভাবে শীতল থাকে।

  3. গ)

    চিত্র-১-এর বায়ুপ্রবাহটি সমুদ্রবায়ু (Sea breeze); চিত্রে 'দিনে' লেখা আছে এবং সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে।

    ১. দিনের বেলায় স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয়, তাই সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
    ২. জলভাগ কম উত্তপ্ত হয় বলে সেখানকার বায়ু তুলনামূলক শীতল ও উচ্চচাপযুক্ত থাকে।
    ৩. ফলে উচ্চচাপের জলভাগ থেকে নিম্নচাপের স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। স্থলভাগের উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে উপরে ওঠে (চিত্রে ঊর্ধ্বমুখী তীর)।

    বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় এখানে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয়।

  4. ঘ)

    চিত্র-২ ও চিত্র-৩-এর বৃষ্টিপাত একই প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয় না। চিত্র-২ পরিচলন বৃষ্টি এবং চিত্র-৩ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি।

    ১. চিত্র-২ (পরিচলন বৃষ্টি): প্রচণ্ড সূর্যকিরণে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়। উষ্ণ ও হালকা বায়ু ও জলীয়বাষ্প সোজা উপরে উঠে যায়, শীতল বায়ুর সংস্পর্শে ঘনীভূত হয়ে মেঘ হয় এবং সোজাসুজি নিচে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে। এতে ঝড়োপুঞ্জ মেঘ তৈরি হয় এবং মুষলধারে বৃষ্টি হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে এ বৃষ্টি হয়।
    ২. চিত্র-৩ (শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি): জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে উপরে উঠে যায়, উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টি ঘটায়। অনুবাত ঢালে বায়ু নিচে নেমে উষ্ণ ও শুষ্ক হয়, তাই সেখানে বৃষ্টি কম হয়; একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। যেমন হিমালয়ের প্রতিবাত ঢালে আসামে প্রচুর বৃষ্টি হয়, কিন্তু তিব্বতের মালভূমি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।
    ৩. পার্থক্যের মূল: চিত্র-২-এ বায়ু উত্তপ্ত হয়ে নিজে থেকে ওপরে ওঠে। চিত্র-৩-এ বায়ু পর্বতের বাধায় জোর করে ওপরে ওঠে।

    সুতরাং, দুটি বৃষ্টিপাতে মেঘ ও বৃষ্টি সৃষ্টির মূল ধারণা ঘনীভবন হলেও বায়ু উপরে ওঠার কারণ আলাদা; তাই প্রক্রিয়া এক নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন