ব্যবসায় উদ্যোগ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

আবির, জাবের ও সাবের মিলে মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে একটি বিজ্ঞাপনী ব্যবসায় চালু করে। তারা প্রত্যেকে ৫ লক্ষ টাকা করে মূলধন যোগান দিয়েছে। চুক্তিমতে, আবির ও জাবের মিলে ব্যবসায় পরিচালনা করবে। সাবের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে না- কিন্তু লাভের সমান অংশ পাবে। অন্যদিকে, জাবের ব্যবসায়ের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করার দায়িত্ব পান। একদিন হঠাৎ আবিরকে' কিছু না জানিয়ে নিজেদের মূলধনসহ ব্যবসায়ের আরও অনেক টাকা নিয়ে জাবের ও সাবের বিদেশে চলে যায়।

  1. ক)

    অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণের অসীম দায় ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সাবের কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চুক্তিগত অধিকার আদায়ে ও ব্যবসায়ের দায় পরিশোধে আবিরের করণীয় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি হলো অংশীদারদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি।

  2. খ)

    অংশীদারি ব্যবসায়ে প্রত্যেক অংশীদারের দায় ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে অসীম। ব্যবসায়ের সম্পদ দেনা পরিশোধের জন্য যথেষ্ট না হলে অংশীদারদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করেও দেনা শোধ করতে হয়। কোনো অংশীদার দেউলিয়া হলে তার দায়ও অন্য অংশীদারদের বহন করতে হয়। একে অংশীদারদের অসীম দায় বলে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের সাবের ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেছে এবং লাভের সমান অংশ পায়, কিন্তু ব্যবসায়ের কোনো কার্যক্রমে অংশ নেয় না। এ ধরনের অংশীদারকে ঘুমন্ত অংশীদার (Sleeping Partner) বলে।

    ঘুমন্ত অংশীদারের বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. তিনি ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ পান।
    ২. অধিকার থাকা সত্ত্বেও সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেন না।
    ৩. তার দায় অসীম।

    সাবেরের মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকায় সে ঘুমন্ত অংশীদার।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে জাবের ও সাবের মূলধনসহ ব্যবসায়ের আরও অনেক টাকা নিয়ে আবিরকে না জানিয়ে বিদেশে চলে গেছে। এতে আবির বিপদে পড়েছে। তার করণীয় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. দায় পরিশোধ: অংশীদারি ব্যবসায়ে প্রত্যেক অংশীদারের দায় অসীম। তাই পাওনাদারদের কাছে ব্যবসায়ের দেনা পরিশোধে আবিরকে প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়েও দায় মেটাতে হবে।
    ২. চুক্তিগত অধিকার আদায়: জাবের ও সাবের চুক্তি ভঙ্গ করেছে। চুক্তি মৌখিক হলেও তা বৈধ, তাই আবির সাক্ষী ও প্রমাণসহ আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য মূলধন ও নেওয়া অর্থ ফেরত চাইতে পারে।
    ৩. বিলোপসাধন: অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী অসদাচরণের কারণে আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হলে আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ের বিলোপসাধন চাওয়া যায়।

    সুতরাং, আবিরকে প্রথমে দেনা পরিশোধ ও আইনি পদক্ষেপ নিয়ে অর্থ আদায় করতে হবে এবং প্রয়োজনে বিলোপসাধনের জন্য আদালতে যেতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন