সাহিত্য পাঠ • তাহারেই পড়ে মনে • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

সালমা ও জামিল দাম্পত্য জীবনে সুখেই দিনাতিপাত করছিল। হঠাৎ এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল জামিল। ছন্দপতন ঘটল সালমার সুখময় জীবনে। যদিও পরবর্তীকালে শামীম নামের এক ভদ্রলোকের সাথে সালমার আবার বিয়ে হয়। কিন্তু প্রথম স্বামীর স্মৃতি সে এক দিনের জন্যেও ভুলতে পারেনি। কারণ, সে ছিল তার সকল কাজের প্রেরণাদাতা। প্রতি বসন্তে সালমা প্রথম স্বামীর কথা স্মরণ করে একদম উদাসীন হয়ে যায় এবং স্বামীর কবরের পাশে বসে নীরবে অশ্রুপাত করে। কেননা তার সেই ভালোবাসার মানুষটি বসন্তকালেই তাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলে গেছে।

  1. ক)

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?

    (1)
  2. খ)

    'কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জামিরের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কার সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের সালমার মনের কষ্ট আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এক সূত্রে গাঁথা'- আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে (পয়ারজাত) রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী' বলতে কুয়াশার চাদর গায়ে জড়িয়ে শীতের নিঃস্ব ও রিক্ত রূপকে প্রস্থানরত সন্ন্যাসীর সঙ্গে তুলনা করে বোঝানো হয়েছে।

    প্রকৃতিতে মাঘ মাসের শেষে শীত বিদায় নেয়। শীতের কুয়াশাকে কবি চাদরের সাথে এবং শীতকালকে সকল পাতা ঝরিয়ে যাওয়া সর্বত্যাগী এক সন্ন্যাসীর সঙ্গে রূপক অর্থে তুলনা করেছেন। শীতের এই রিক্ত বিদায়ের পথ ধরেই বসন্তের আগমন ঘটে—কবি এ কথাটিই ব্যক্ত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জামিলের সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির প্রয়াত স্বামী ও সাহিত্যসাধনার অন্যতম অনুপ্রেরণাদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাদৃশ্য রয়েছে।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিগত বিষাদময় জীবনের ছায়া পড়েছে। কবির প্রথম স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন ছিলেন তাঁর সাহিত্যচর্চার পরম উৎসাহদাতা। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে আসে গভীর শূন্যতা ও রিক্ততা, যার কারণে প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির মনে কোনো আনন্দের ছোঁয়া লাগে না।

    উদ্দীপকের জামিলও সালমার জীবনের প্রেরণা ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুর ফলে সালমার সুখে থাকা জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। পরবর্তী জীবনে সালমা আবার বিয়ে করলেও প্রথম স্বামী জামিলের স্মৃতি ও অবদান কোনোদিনই ভুলতে পারেনি। সুতরাং, উদ্দীপকের জামিল চরিত্রটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির প্রয়াত স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনেরই প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের সালমার মনের কষ্ট আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এক সূত্রে গাঁথা”—মন্তব্যটি গভীরভাবে সত্য।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বামী জামিলকে হারিয়ে সালমার জীবনে স্থায়ী হাহাকার তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে হলেও বসন্ত এলে সে প্রথম স্বামীর বিয়োগব্যথায় উদাসীন হয়ে পড়ে এবং নীরবে অশ্রুপাত করে, কারণ বসন্তকালেই তার প্রিয়তম স্বামী পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

    অনুরূপভাবে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের পরম বিয়োগব্যথা রূপায়িত হয়েছে। বসন্তের আগমনে চারপাশের প্রকৃতি ফুলে-ফলে শোভিত হলেও কবির মন আচ্ছন্ন থাকে তীব্র বিষাদে। তাঁর স্বামী ও সাহিত্যজীবনের মূল প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের অকাল প্রয়াণের স্মৃতি বসন্তের রূপ-সৌন্দর্যকে কবির কাছে অর্থহীন করে তোলে। ভক্ত-পাঠকের শত অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি বসন্ত বন্দনা করতে পারেন না, কারণ তাঁর মন পড়ে থাকে রিক্ত শীতের বিদায়বেলায় হারানো স্বামীর স্মৃতির মাঝে।

    অতএব, উদ্দীপকের সালমা এবং কবিতার কবি উভয়েই প্রিয়তম মানুষের চিরবিদায়ে চরম শূন্যতায় নিমজ্জিত। বসন্তকাল দুজনের জীবনেই আনন্দ না এনে গভীর বিরহ ও বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বলা যায়, উভয়ের মনের কষ্ট ও হৃদয়ের রক্তক্ষরণ একই সূত্রে গাঁথা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন