বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
পৌরাণিক ধর্ম কী?
- খ)(2)
প্রাচীন বাংলার নারীদের সামাজিক অবস্থা কেমন ছিল?
- গ)(3)
'ছক-১' এ প্রাচীন বাংলার কোন চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, 'ছক-২'-এর শিল্পগুলো বাংলার বাণিজ্য প্রসারে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিল? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বেদ-উপনিষদভিত্তিক ধর্মের পরবর্তী পর্যায়ে পুরাণ অনুসরণে গড়ে ওঠা হিন্দু ধর্মকে পৌরাণিক ধর্ম বলা হয়, যেখানে বিষ্ণু, শিব, দুর্গা প্রমুখ দেবদেবীর পূজা প্রধান।
- খ)
প্রাচীন বাংলায় নারীরা পরিবার ও সমাজে সম্মানের স্থান পেত।
তারা গৃহকর্ম, সন্তান লালন ও ধর্মীয় আচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তবে সমাজ ছিল পুরুষপ্রধান। উচ্চ শ্রেণির নারীদের মধ্যে কিছু শিক্ষার সুযোগ ছিল, কিন্তু বাল্যবিবাহ ও সতীদাহের মতো কুপ্রথাও প্রচলিত ছিল।
- গ)
ছক-১-এ কানে কুন্ডল, গলায় হার, আঙুলে আংটি, হাতে বালা ও পায়ে মলের কথা আছে। এতে প্রাচীন বাংলার মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ ও অলংকার ব্যবহারের চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রাচীন বাংলার নারী-পুরুষ উভয়েই অলংকার পছন্দ করত। সোনা, রুপা, হাতির দাঁত ও শঙ্খের তৈরি গয়না তারা ব্যবহার করত। এসব অলংকার সমাজে সৌন্দর্যবোধ ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক ছিল। ছক-১-এর অলংকারগুলো সেই সময়ের সাজসজ্জার সমৃদ্ধ রূপই তুলে ধরে।
- ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি ছক-২-এর কুটির শিল্প, স্বর্ণশিল্প ও বস্ত্র শিল্প বাংলার বাণিজ্য প্রসারে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিল।
১. বাংলার সুতি ও রেশমি বস্ত্রের চাহিদা দেশ-বিদেশে ছিল। বস্ত্র শিল্পের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় অবদান রাখত।
২. স্বর্ণশিল্প ও অলংকার তৈরির কারণে সোনা-রুপার ব্যবসা ও বিলাসদ্রব্যের বাণিজ্য বিকশিত হয়েছিল।
৩. কুটির শিল্পের পণ্য, যেমন মাটি, বাঁশ, বেত ও ধাতুর জিনিস, স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হতো এবং কারিগরদের আয় বাড়াত। নদীপথ ও সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে এসব পণ্য বিদেশে যেত।অতএব, এসব শিল্প বাংলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছিল এবং বাণিজ্য প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও