জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রজাতি কী?

    (1)
  2. খ)

    অগ্রাধিকার আইন বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    চিত্র A এর পর্বভিত্তিক বৈশিষ্ট্য লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্রে C প্রাণীটি B প্রাণী থেকে উন্নত কিনা? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রজাতি (Species) হলো সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ এমন একদল জীব, যারা নিজেদের মধ্যে মিলনে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম কিন্তু অন্য দলভুক্ত সদস্যদের সাথে জননগতভাবে বিচ্ছিন্ন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো জীবের একাধিক বৈজ্ঞানিক নাম প্রকাশিত হলে, নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি (ICZN/ICBN) অনুযায়ী ১৭৫৮ সালের ১ জানুয়ারি ক্যারোলাস লিনিয়াসের 'Systema Naturae'-এর দশম সংস্করণে বর্ণিত নাম বা তার পরবর্তী সময়ে সর্বপ্রথম সঠিকভাবে প্রকাশিত ও বর্ণিত নামটিই বৈধ নাম হিসেবে গৃহীত হওয়ার নীতিকে অগ্রাধিকার আইন (Law of Priority) বলে। পরবর্তী অন্যান্য নামগুলো জুনিয়র সমার্থক (junior synonym) হিসেবে বাতিল হয়ে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-A প্রাণীটি হলো গোলকৃমি, যা নেমাটোডা (Nematoda) পর্বের অন্তর্ভুক্ত।

    নেমাটোডা পর্বের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, অপ্রকৃত খণ্ডকায়নযুক্ত এবং উভয় প্রান্ত সরু ও সূচালো।
    ২. দেহ স্থিতিস্থাপক ও কোলাজেন নির্মিত কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
    ৩. এদের দেহগহ্বর অপ্রকৃত সিলোম বা সিউডোসিলোম (Pseudocoelom) প্রকৃতির।
    ৪. পৌষ্টিকনালি সম্পূর্ণ, মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত এবং 'নলের ভেতর নল' (tube within a tube) ধরনের দেহ পরিকল্পনা প্রদর্শন করে।
    ৫. এদের দেহে সংবহনতন্ত্র ও শ্বসনতন্ত্র অনুপস্থিত। সাধারণত একলিঙ্গিক প্রাণী এবং যৌন দ্বিরূপতা দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-B প্রাণীটি মাছ (অ্যাকটিনোপটেরিজি/কর্ডাটা) এবং চিত্র-C প্রাণীটি পাখি (অ্যাভিস/কর্ডাটা)। গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় এবং বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে চিত্র-C (পাখি) প্রাণীটি চিত্র-B (মাছ) অপেক্ষা অধিক উন্নত। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মাছ শীতল রক্তবিশিষ্ট বা পোইকিলোথার্মিক (Poikilothermic), কিন্তু পাখি উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট বা হোমওথার্মিক (Endothermic), যা পাখির দেহের তাপমাত্রা সার্বক্ষণিক পরিবেশের তাপমাত্রা নির্বিশেষে স্থিতিশীল রাখে।
    ২. হৃদপিণ্ডের গঠন: মাছের হৃদপিণ্ড দ্বি-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং এটি শিরা-হৃদপিণ্ড যা কেবল দূষিত রক্ত পরিবহন করে। পক্ষান্তরে, পাখির হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চার-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়), যেখানে অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন রক্ত সম্পূর্ণ পৃথক থাকে।
    ৩. শ্বসনতন্ত্র: মাছ জলজ প্রাণী হিসেবে ফুলকার সাহায্যে শ্বসনকার্য চালায়, অন্যদিকে পাখি ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বসন চালায় এবং ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি (Air sacs) যুক্ত থাকায় দ্বৈত শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্যকরভাবে শক্তি উৎপাদন করতে পারে।
    ৪. অঙ্গসংস্থানিক অভিযোজন: পাখির অগ্রপদ ডানা ও দেহ পালকে রূপান্তরিত হয়ে বায়বীয় অভিযোজন ও দ্রুত স্থানান্তরে সাহায্য করে। পাখির অস্থিগুলো হালকা ও নিউমেটিক (বায়ুপূর্ণ)।
    ৫. মস্তিষ্ক ও আচরণ: মাছের তুলনায় পাখির সেরিব্রাম ও সেরিবেলাম অত্যন্ত উন্নত, ফলে এদের দৃষ্টিশক্তি, ভারসাম্য রক্ষা এবং অপত্য লালন-পালন ও যোগাযোগমূলক আচরণ অনেক বেশি জটিল ও উন্নত।

    সুতরাং, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য ও তুলনামূলক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, চিত্র-C (পাখি) নিশ্চিতভাবেই চিত্র-B (মাছ) অপেক্ষা অধিক উন্নত প্রাণী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন