গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
পরিবারের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
সামাজিক পরিবর্তন কীভাবে পরিবারের উপর প্রভাব বিস্তার করে?
- গ)(3)
'X' কে চিহ্নিত করে এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রতিটি 'X' এর নির্দিষ্ট কিছু কার্যাবলি রয়েছে- উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার হলো বিবাহ ও রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্রতম মৌলিক সামাজিক সংগঠন, যেখানে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের সন্তান-সন্ততি বা অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন একত্রে বসবাস করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পায়ন, নগরায়ণ, আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিকাশের মতো সামাজিক পরিবর্তন পরিবারের গঠন ও ভূমিকার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নিচ্ছে। এছাড়া পরিবারের সনাতন শিক্ষাদান, বিনোদন ও উৎপাদনমুখী কাজের অনেকটাই এখন বাইরের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পারিবারিক দায়িত্ব ও সম্পর্কে পরিবর্তন এসেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'X' দ্বারা 'পরিবার'-কে নির্দেশ করা হয়েছে। কারণ উদ্দীপকের দুটি শাখায় বলা হয়েছে 'এর সমষ্টিই সমাজ' এবং 'স্বামী-স্ত্রী দ্বারা সৃষ্ট একটি সংঘ'—যা পরিবারের মূল পরিচয় বহন করে।
পরিবারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বৈবাহিক সম্পর্ক: পরিবারের মূল ভিত্তি হলো একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে সমাজস্বীকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক।
২. সাধারণ বাসস্থান: পরিবারের সদস্যরা সাধারণত একই ছাদের নিচে বসবাস করে এবং একসাথে খাদ্য গ্রহণ ও দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে।
৩. বংশবৃদ্ধি ও লালন-পালন: মানব প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা, সন্তান জন্মদান এবং তাদের লালন-পালন করা পরিবারের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
৪. অর্থনৈতিক সহযোগিতা: পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পদ ও দায়িত্ব বণ্টন করে পরস্পরকে সহযোগিতা করে থাকে।
৫. আবেগীয় বন্ধন: সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক স্নেহ, ভালোবাসা, সহানুভূতি ও ত্যাগের এক গভীর আবেগীয় বন্ধন বিদ্যমান থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'X' হলো পরিবার। "প্রতিটি পরিবারের নির্দিষ্ট কিছু কার্যাবলি রয়েছে"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
পরিবার সমাজের সবচেয়ে মৌলিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানবজীবনের ধারাবাহিকতা ও বিকাশে বহুমুখী কার্যাবলি সম্পাদন করে:
১. জৈবিক কাজ: সন্তান জন্মদান ও বংশরক্ষা করা পরিবারের প্রধান ও মৌলিক কাজ।
২. মনস্তাত্ত্বিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ: পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা দেওয়া এবং তাদের স্নেহ-ভালোবাসা ও সাহচর্য প্রদানের মাধ্যমে মানসিক তৃপ্তি নিশ্চিত করা।
৩. অর্থনৈতিক কাজ: সদস্যদের মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা) পূরণ এবং আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো অর্থনৈতিক দায়িত্ব পরিবার পালন করে।
৪. শিক্ষামূলক কাজ: শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু হয়। মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ভাষা শিক্ষা, আচরণ ও নিয়মকানুন শেখার মাধ্যমে শিশুর বিকাশ ঘটে।
৫. সামাজিকীকরণ: সমাজের আদর্শ, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে শিশুকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা পরিবারের কাজ।
৬. বিনোদনমূলক কাজ: পরিবারের সদস্যদের সাথে পারস্পরিক ভাব বিনিময়, গল্পগুজব ও আনন্দ উদযাপনের মাধ্যমে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়।সুতরাং, উপযুক্ত কার্যাবলি পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট যে সমাজকে টিকিয়ে রাখতে এবং একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিটি পরিবারের ভূমিকা ও নির্দিষ্ট কার্যাবলি অনস্বীকার্য। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও