জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ • Combined Board • যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
আবিদা ম্যাডাম ক্লাসে প্রথমে সমান্তরাল শিরাবিন্যাস পাতা ও পুষ্প স্পাইকলেট ধরনের উদ্ভিদ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। পরে বৃত্তাকার পরাগধানীবিশিষ্ট একটি উদ্ভিদের চিত্র প্রদর্শন করেন ।
- ক)(1)
আইসোগ্যামাস কাকে বলে?
- খ)(2)
পরজীবী বলতে কী বোঝ ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরের উদ্ভিদের গোত্রের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো।
- ঘ)(4)
ভূমিক্ষয় রোধ, গবাদিপশুর পালন, খাদ্যের যোগান ও শিল্পে প্রথম গোত্রের উদ্ভিদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আকার, আকৃতি ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যে পরস্পর সদৃশ দুটি গ্যামেটের মিলনকে আইসোগ্যামাস (বা এদের মিলন প্রক্রিয়াকে আইসোগ্যামি) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব জীব জীবনধারণ, পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য অন্য কোনো জীবিত পোষক জীবের ওপর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নির্ভরশীল থাকে এবং পোষকের ক্ষতিসাধন করে নিজের পুষ্টি গ্রহণ করে, তাদেরকে পরজীবী (Parasite) বলে। উদাহরণস্বরূপ: মানুষের অন্ত্রের কৃমি কিংবা উদ্ভিদের ক্ষেত্রে স্বর্ণলতা (Cuscuta)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরের উদ্ভিদটি ‘বৃত্তাকার বা বৃক্কাকার পরাগধানীবিশিষ্ট’, যা মালভেসি (Malvaceae) গোত্রের উদ্ভিদকে (যেমন—জবা) নির্দেশ করে।
মালভেসি গোত্রের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. উদ্ভিদের কচি অংশ ও পাতা সাধারণত মিউসিলেজ বা পিচ্ছিল রসযুক্ত এবং রোমশ (তারকাকার রোম উপস্থিত)।
২. পাতায় মুক্ত-পার্শ্বীয় উপপত্র বিদ্যমান।
৩. পুষ্পে সাধারণত উপবৃত্তি (epicalyx) উপস্থিত থাকে।
৪. পুংকেশর অসংখ্য এবং পুংকেশরীয় নালী গর্ভদণ্ডকে ঘিরে অবস্থান করে (একগুচ্ছক পুংকেশর বা monadelphous)।
৫. পরাগধানী একপ্রকোষ্ঠী ও দেখতে বৃক্কাকার (kidney-shaped)।
৬. পরাগরেণু বৃহৎ এবং কণ্টকিত (spiny)।
৭. দলমণ্ডল বা পুষ্পপত্রবিন্যাস (aestivation) সাধারণত টুইস্টেড বা পাকানো প্রকৃতির।
৮. অমরাবিন্যাস অক্ষীয় (axile)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম গোত্রটি হলো 'সমান্তরাল শিরাবিন্যাসযুক্ত পাতা ও স্পাইকলেট পুষ্পবিন্যাসবিশিষ্ট' অর্থাৎ পোয়াসি (Poaceae বা Gramineae) গোত্র (ঘাস গোত্র)। নিচে উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহে এ গোত্রের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. খাদ্যের যোগান: মানবজাতির প্রধান প্রধান খাদ্যশস্য যেমন—ধান, গম, ভুট্টা, বার্লি, ওটস, জোয়ার, বাজরা সবই পোয়াসি গোত্রের উদ্ভিদ। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের শক্তির প্রধান উৎস এ গোত্রের খাদ্যশস্য থেকেই আসে। চিনি ও গুড় তৈরির প্রধান উৎস আখও এই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
২. গবাদিপশুর পালন: গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য হলো ঘাস ও খড়। দূর্বাঘাস (Cynodon dactylon), নেপিয়ার ঘাস, গিনি ঘাস ইত্যাদি উৎকৃষ্টমানের গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডেইরি ও পশুপালন শিল্প সম্পূর্ণরূপে এ গোত্রের উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল।
৩. ভূমিক্ষয় রোধ: পোয়াসি গোত্রের ঘাসজাতীয় উদ্ভিদগুলোর গুচ্ছমূল মাটির ওপরের স্তরে ঘন জালের মতো বিন্যস্ত থাকে। দূর্বাঘাস মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রেখে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বাতাসের কারণে হওয়া ভূমিক্ষয় কার্যকরভাবে রোধ করে। নদীভাঙন ও বাঁধ সংরক্ষণে এদের ভূমিকা অপরিহার্য।
৪. শিল্পে গুরুত্ব: বাঁশ (যা এই গোত্রের অন্তর্গত) গৃহনির্মাণ, কাগজ শিল্প ও মণ্ড তৈরিতে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আখের ছোবড়া জ্বালানি ও পার্টিক্যাল বোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ঘাস থেকে মাদুর, কুটিরশিল্পের সামগ্রী ও সুগন্ধি তেল প্রস্তুত করা হয়।
সুতরাং, ভূমিক্ষয় রোধ, পশুপালন, মানুষের খাদ্যের মৌলিক জোগান এবং বহুমুখী শিল্পোন্নয়নে পোয়াসি গোত্রের উদ্ভিদের অবদান অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও