‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

ক' রাষ্ট্রটি পূর্ব ও পশ্চিমে অঞ্চলে বিভক্ত। উভয় অঞ্চলের জনগণের ভাষা সংস্কৃতি আলাদা। ফলে পূর্ব অঞ্চলের জনগণ পশ্চিম অঞ্চলের জনগণ থেকে নিজেদের আলাদা ভাবে। কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে অগ্রাহ্য করে অন্য একটি ভাষাকে চাপিয়ে দিতে চায়। ফলে পূর্ব অঞ্চলের মানুষ মাতৃভাষার দাবিতে রাজপথে নামে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

  1. ক)

    জাতীয়তাবাদ বা জাতি রাষ্ট্রের জনক বা স্বপ্নদ্রষ্টা কে?

    (1)
  2. খ)

    জাতি ও জাতীয়তার পার্থক্য দেখাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ কোন চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানই জাতীয়তার একমাত্র উপাদান নয়- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিকোলো মেকিয়াভেলিকে আধুনিক জাতীয়তাবাদের জনক বা জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয়তা হলো একটি মনস্তাত্ত্বিক ও মানসিক অনুভূতি বা একাত্মতাবোধ, যা একটি জনগোষ্ঠীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে একতাবদ্ধ করে। অপরদিকে, জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এবং স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী এমন একটি জাতীয়তাবাদী জনগোষ্ঠী। অর্থাৎ, জাতীয়তার অনুভূতির সাথে রাজনৈতিক সংগঠন বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা যুক্ত হলেই 'জাতি'র সৃষ্টি হয় (জাতীয়তা + রাজনৈতিক চেতনা/রাষ্ট্র = জাতি)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ 'ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদী চেতনায়' উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল।

    উদ্দীপকের পূর্ব অঞ্চলের জনগণ তাদের স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়। কেন্দ্রীয় সরকার যখন তাদের মাতৃভাষাকে অগ্রাহ্য করে অন্য ভাষা চাপিয়ে দিতে চায়, তখন তাদের মধ্যে তীব্র ভাষাগত জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়। এই ভাষাগত একাত্মতাবোধই পরবর্তীতে রাজনৈতিক সচেতনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়, যা বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কেবল ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক উপাদানের কথা বলা হয়েছে, তবে জাতীয়তা গঠনের জন্য এটিই একমাত্র উপাদান নয়—উক্তিটি যথার্থ।

    জাতীয়তা গড়ে ওঠার জন্য আরও অনেক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেমন:
    ১. ভৌগোলিক ঐক্য: একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন একসাথে বসবাসের ফলে মানুষের মধ্যে অভিন্ন জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে।
    ২. বংশগত ঐক্য: একই বংশ বা রক্তসম্পর্কের অনুভূতি জাতীয়তা গঠনে সহায়তা করে।
    ৩. ধর্মীয় ঐক্য: সমধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস অনেক সময় ঐক্য তৈরিতে সহায়ক হয়।
    ৪. ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত ঐক্য: অভিন্ন অতীত ইতিহাস, স্মৃতি, আনন্দ-বেদনার অভিজ্ঞতা জনগণকে মানসিকভাবে একাত্ম করে।
    ৫. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঐক্য: অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বন্ধন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে।

    অনেক ক্ষেত্রে ভাষা বা ধর্মের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কেবল ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ঐক্যের কারণে শক্তিশালী জাতীয়তা গড়ে ওঠে (যেমন- সুইজারল্যান্ড, ভারত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)। সুতরাং, ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এটিই জাতীয়তার একমাত্র উপাদান নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন