হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রত্যাহার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    স্মৃতিশাস্ত্র কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তুমি যদি জাগতিক জীবনে মঙ্গল লাভ করতে চাও, তাহলে কোন যুগের ধর্ম বৈশিষ্ট্যকে বেছে নেবে? তোমার পাঠের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "আধুনিক যুগে বিভিন্ন মহাপুরুষের উপাসনা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সামাজিক ও ধর্মীয় মতভেদ সৃষ্টি করছে।"- উক্তিটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে প্রত্যাহার বলে।

  2. খ)

    বৈদিক শিক্ষার কর্ম ও জ্ঞান এই দুই মতের সংযোগ স্থাপন করে যে শাস্ত্র সৃষ্টি হয়েছে, তাকে স্মৃতিশাস্ত্র বা ধর্মশাস্ত্র বলে। এখানে বলা হয়েছে মোক্ষলাভের জন্য কর্ম ও জ্ঞান উভয়েরই প্রয়োজন। স্মৃতিশাস্ত্রে আশ্রমধর্মের বিধান এবং হিন্দুসমাজ পরিচালনার বিধি-বিধান আছে। মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা ও পরাশরসংহিতা এর উদাহরণ।

  3. গ)

    জাগতিক জীবনে মঙ্গল লাভ করতে চাইলে আমি বৈদিক যুগের ধর্ম বৈশিষ্ট্যকে বেছে নেব।

    ১. বৈদিক যুগের ঋষিরা ছিলেন জীবনবাদী ও সুখবাদী। তাঁদের ধর্মচিন্তায় জাগতিক ও পারমার্থিক উভয় কল্যাণের উদ্দেশ্য ছিল।
    ২. তাঁরা যাগযজ্ঞের মাধ্যমে 'শ্রী' ও 'ধী' প্রার্থনা করতেন। শ্রী হলো ধন-ধান্য, বল-বিক্রম ও যশের মতো পার্থিব কাম্যবস্তু এবং ধী হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।
    ৩. বাজসনেয় সংহিতার মন্ত্রে তেজ, বীর্য, বল ও সহ্যশক্তি প্রার্থনা করা হয়েছে, যা জাগতিক জীবনের উন্নতির সহায়ক।

    অতএব, জাগতিক মঙ্গলের জন্য বৈদিক যুগের বৈশিষ্ট্যই উপযুক্ত।

  4. ঘ)

    উক্তিটি আধুনিক যুগে বিভিন্ন মহাপুরুষের আবির্ভাব ও তাঁদের ভক্তদের ঘিরে। এ যুগে রাজা রামমোহন রায় এক ব্রহ্মের উপাসনার কথা বলেছেন, রামকৃষ্ণ সাকার মাতৃসাধনা করেছেন, হরিচাঁদ ঠাকুর হরিনামের কথা বলেছেন, শ্রীচৈতন্য ও পরবর্তীকালে স্বামী প্রণবানন্দ, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রমুখ ভিন্ন ভিন্ন পথ দেখিয়েছেন। বাইরে থেকে দেখলে এতে অনুসারীদের মধ্যে ভিন্নমত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্লেষণ—

    ১. আশঙ্কার দিক: মানুষ নিজ নিজ আদর্শ পুরুষকে সর্বোচ্চ ভাবলে সংকীর্ণ গোষ্ঠীচিন্তা তৈরি হতে পারে। রামমোহনও লক্ষ করেছিলেন যে বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসনায় হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষুদ্র গোষ্ঠীতে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
    ২. সমন্বয়ের দিক: মহাপুরুষদের শিক্ষা মূলত বিভেদ নয়, ঐক্যের। রামকৃষ্ণ বলেছেন 'যত মত, তত পথ' এবং 'যত্র জীব, তত্র শিব'। বিবেকানন্দের বাণী 'বিবাদ নয়, সহায়তা; মতবিরোধ নয়, সমন্বয় ও শান্তি'।
    ৩. ঐক্যের সূত্র: শ্রীচৈতন্যের প্রেমভক্তি বিভিন্ন দেব-দেবীর অনুসারীদের বিদ্বেষ ও বর্ণভেদ দূর করেছে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্য।

    সুতরাং, পাঠ্যবইয়ের আলোকে বলা যায় মহাপুরুষদের আদর্শ ভুলভাবে অনুসরণ করলে মতভেদ হতে পারে, কিন্তু তাঁদের মূল শিক্ষা অনুসরণ করলে ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্যই প্রতিষ্ঠিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন