গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

১২ বছর বয়সী মীম মায়ের সাথে থাকে। মা তাকে স্কুলে নিয়ে যায়। স্কুলের বন্ধুদের সাথে মীম মাকে নিয়েই গল্প করে। একদিন বন্ধুরা তাকে প্রশ্ন করে, তুমি তো প্রতিদিন মায়ের গল্প করো। তোমার বাবার কথা কিছু বলনা কেন? বন্ধুদের প্রশ্নের উত্তর না দিতে পেরে মীম চুপ করে থাকে। ফলে মীমের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। মেয়ের স্কুলে যাওয়ার অনীহা দেখে মা মেয়েকে বোঝাতে চেষ্টা করে, তুমি পড়াশোনায় খুব ভালো, প্রতিদিন স্কুলে গেলে ও মনোযোগসহকারে পড়লে ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

  1. ক)

    নৈতিক বিকাশ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মায়ের বুকের প্রথম উৎপন্ন দুধের নাম কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মীমের স্কুলে না যাওয়া পারিবারিক বিপর্যয়ের কোন কারণটিকে নির্দেশ করে— ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মীমের মা শিশু পরিচালনার কোন নীতি অনুসরণ করছে বলে তুমি মনে করো? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সমাজ স্বীকৃত ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের ধারণা অর্জন করে সে অনুযায়ী আচরণ করার ক্ষমতা অর্জনকে নৈতিক বিকাশ বলে।

  2. খ)

    মায়ের বুকের প্রথম উৎপন্ন দুধের নাম কলোস্ট্রাম (শালদুধ)। এটি প্রসবের পর প্রথম কয়েক দিন নিঃসৃত হলুদ ঘন দুধ। এতে অ্যান্টিবডি, ভিটামিন এ ও প্রোটিন প্রচুর থাকে। এটি শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং সহজে হজম হয়। এ কারণে প্রসবের পর যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে এ দুধ খাওয়ানো উচিত।

  3. গ)

    মীমের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়া পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ — পিতার অনুপস্থিতিকে (মৃত্যু অথবা বিবাহবিচ্ছেদ/বিচ্ছিন্নতার ফলে পরিবারের একজন সদস্যের না থাকা) নির্দেশ করে।

    উদ্দীপকে মীম শুধু মায়ের সাথে থাকে এবং বন্ধুরা বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দিতে পারে না। বাবার অনুপস্থিতির কারণে মীমের মধ্যে হীনম্মন্যতা ও লজ্জাবোধ তৈরি হয়েছে, ফলে বন্ধুদের মুখোমুখি হতে চায় না এবং স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ কমে গেছে। পরিবারের কোনো সদস্যের অভাব এভাবে শিশুর মানসিক ও শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলে।

  4. ঘ)

    আমার মতে মীমের মা শিশু পরিচালনায় উৎসাহ প্রদান ও বুঝিয়ে বলার (গণতান্ত্রিক/যুক্তিভিত্তিক) নীতি অনুসরণ করছেন।

    ১. বুঝিয়ে বলা: মা মেয়ের অনীহা দেখে বকাবকি বা জোর না করে ধৈর্যের সঙ্গে বুঝিয়েছেন।

    ২. উৎসাহ ও প্রশংসা: তিনি বলেছেন, মীম পড়াশোনায় ভালো। এতে মীমের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

    ৩. ভবিষ্যতের লক্ষ্য দেখানো: নিয়মিত স্কুলে গেলে ও মনোযোগ দিলে ভালো ফলাফল করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় — এভাবে তিনি মীমকে লক্ষ্যের দিকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

    সুতরাং, মা শিশুর অনুভূতি বুঝে তাকে উৎসাহ ও যুক্তির মাধ্যমে পরিচালনা করছেন, যা শিশু পরিচালনার একটি কার্যকর নীতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন