বাংলা ১ম পত্র • মমতা-দি • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আঠারো বছর বয়সে সুরাইয়ার বিয়ে হয়। বছর দুয়েক পর তিনি এক কন্যা সন্তানের মা হন। পরের বছরই তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। অসহায় হয়ে পড়লেও সাহস হারাননি তিনি। সেলাইয়ের কাজ শিখে কয়েকটি সেলাই মেশিন কিনে নিজের ঘরে তৈরি করেন এক ছোটো কারখানা। দুই-তিন বছরের মধ্যেই সফলতা লাভ করতে শুরু করেন তিনি। আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমকে পুঁজি করে আজ তিনি সমাজের প্রতিষ্ঠিত এক নারী।
- ক)(1)
মমতাদি কোন গলিতে বাস করতেন?
- খ)(2)
মমতাদি খোকাকে 'বামুনদি' ডাকতে বারণ করেছিলেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুরাইয়া 'মমতাদি' গল্পের মমতাদির সাথে যে দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমকে পুঁজি করেই সুরাইয়া সমাজের প্রতিষ্ঠিত এক নারী।” 'মমতাদি' গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মমতাদি জীবনময়ের গলিতে বাস করতেন।
- খ)
মমতাদি খোকাকে 'বামুনদি' ডাকতে বারণ করেছিলেন কারণ 'বামুনদি' সম্বোধনে রাঁধুনি-ব্রাহ্মণকন্যার কর্মচারীসুলভ পরিচয় প্রকাশ পায়। তিনি সেই দূরত্ব চাননি, তিনি চেয়েছিলেন স্নেহের আত্মীয়তা, তাই বলেছিলেন শুধু 'দিদি' বলতে। সংসারের অভাবে অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও তাঁর মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ ছিল। অভাব ও অবহেলার জীবনে তিনি ভালোবাসার মানুষ খুঁজছিলেন।
- গ)
উদ্দীপকের সুরাইয়া 'মমতাদি' গল্পের মমতাদির সঙ্গে সংগ্রামী, পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী হিসেবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সুরাইয়া স্বামীর মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়লেও সাহস হারাননি। সেলাইয়ের কাজ শিখে সেলাই মেশিন কিনে নিজের ঘরে ছোটো কারখানা গড়ে তুলেছেন এবং কন্যাসন্তানকে নিয়ে ভেঙে না পড়ে সংসারের হাল ধরেছেন।
গল্পেও মমতাদি স্বামীর চাকরি না থাকায় এবং পরে সামান্য চাকরিতে সংসার না চলায় ভদ্রঘরের মেয়ে হয়েও পর্দা ঠেলে অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ নিয়েছেন। অসুস্থ সন্তান ও দুঃসহ অভাবের মধ্যেও তিনি ঘরের কাজ, ছেলের যত্ন আর বাইরের কাজ একসঙ্গে সামলান। স্বামীর চাকরি হওয়ার পর গৃহকর্ত্রী কাজ ছাড়ার সুযোগ দিলেও 'তাঁর সামান্য চাকরিতে কুলবে না' বলে তিনি পরিবারের প্রয়োজনে কাজ চালিয়ে যান।
দুজনই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হাল না ছেড়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবারের জন্য লড়াই করেছেন। এই সংগ্রামী মনোভাব ও আত্মমর্যাদাবোধেই সুরাইয়া ও মমতাদি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
মন্তব্যটি আংশিক যথার্থ। আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম সুরাইয়ার সাফল্যের মূল পুঁজি; 'মমতাদি' গল্পেও মমতাদির চরিত্রে এই গুণ আছে, তবে পরিস্থিতির কারণে মমতাদি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা পাননি।
উদ্দীপকে সুরাইয়া স্বামীকে হারিয়েও হতাশ হননি। সেলাইয়ের কাজ শিখে কারখানা গড়েছেন, দুই-তিন বছরেই সফল হয়েছেন। এখানে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম সাফল্যের কারণ, মন্তব্যটি উদ্দীপকের ক্ষেত্রে যথার্থ। এবার গল্পের আলোকে দেখা যাক।
১. পরিশ্রম: মমতাদি রান্না, ঘর ঝাঁট, কড়াই মাজা, পানি তোলা, মশলা বাটা, তারপর নিজের ঘরের কাজ ও অসুস্থ সন্তানের দেখাশোনা সবই করেন। সুরাইয়ার মতোই তিনি পরিশ্রমী।
২. আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা: তিনি চাননি কেউ তাঁকে তুচ্ছ করুক। 'বামুনদি' ডাক এড়িয়ে স্নেহের সম্পর্কে 'দিদি' হতে চেয়েছেন। পাঠ-পরিচিতিতে আছে, অসম্মান করলে বা সন্দেহের চোখে দেখলে তিনি অপমানবোধ করতেন ও চাকরি ছাড়ার সাহসও রাখতেন।
৩. ফলাফলের পার্থক্য: সুরাইয়া নিজ উদ্যোগে ব্যবসা গড়ে স্বনির্ভর হয়েছেন। কিন্তু মমতাদির উপার্জন সামান্য, অভাবই তাঁর নিত্যসঙ্গী। ঘরে আলো-বাতাসের দীনতা, ভাঙা আসবাব, মুড়ি ছাড়া কিছু নেই। তিনি সমাজে প্রতিষ্ঠিত নন।
৪. সামাজিক প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা: সুরাইয়ার সম্পদ ও সুযোগ গড়ে তোলার স্বাধীনতা ছিল। মমতাদি পরনির্ভর কাজে বাঁধা, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি কষ্টের ইঙ্গিত বহন করেন।
সুতরাং আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম দুজনের চরিত্রেই আছে, আর সুরাইয়ার ক্ষেত্রে এটিই সাফল্যের মূল কারণ। কিন্তু মমতাদির ক্ষেত্রে এই গুণ তাঁকে প্রতিষ্ঠা দিতে পারেনি। তাই মন্তব্যটি সুরাইয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ এবং মমতাদির ক্ষেত্রে আংশিক যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও