জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রান্তীয়করণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে ইন্টারফেজ কেন প্রয়োজনীয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘K’ চিত্রের পরবর্তী পর্যায়ের ক্রোমোজোমের বিন্যাস চিহ্নিত চিত্রের সাহায্যে বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জীবজগতের পরিবর্তন এবং বিবর্তনে উদ্দীপকের ‘L’ পর্যায়ের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ এর ডিপ্লোটিন উপ-পর্যায়ে কায়াজমা প্রান্তের দিকে সরে যাওয়া বা স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রান্তীয়করণ (Terminalization) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি কোষ বিভাজিত হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য ইন্টারফেজ পর্যায় অত্যন্ত আবশ্যক।

    ইন্টারফেজ পর্যায়ে কোষে ডিএনএ (DNA) এর অনুলিপন বা রেপ্লিকেশন ঘটে, প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রোটিন ও আরএনএ সংশ্লেষিত হয় এবং কোষ বিভাজনের জন্য দরকারি এটিপি (ATP) ও শক্তি সঞ্চিত হয়। এছাড়া স্পিন্ডল তন্তু গঠনের প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি ও সেন্ট্রিওল দ্বিগুণ হয়। এ প্রস্তুতিগুলো ছাড়া কোষের পরবর্তী মাইটোটিক বা এম-ফেজ (M-phase) তথা নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের সুষ্ঠু বিভাজন সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। তাই কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে ইন্টারফেজ অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘K’ চিত্রটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মেটাফেজ পর্যায়। মেটাফেজের পরবর্তী পর্যায়টি হলো অ্যানাফেজ বা গতিপর্যায়।

    অ্যানাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমের বিন্যাস নিম্নরূপ:
    ১. এই পর্যায়ের শুরুতেই প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার সমান দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রতিটি ক্রোমাটিড একটি পূর্ণাঙ্গ অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয়।
    ২. অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে স্পিন্ডল যন্ত্রের ট্রাকশন তন্তুর সংকোচন ঘটে এবং স্টেম বডির প্রসারণ ঘটে। এর ফলে ক্রোমোজোমগুলো নিজ নিজ মেরুর দিকে ধাবিত হতে থাকে।
    ৩. মেরু অভিমুখী চলনের সময় সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী থাকে এবং বাহু দুটি অনুগামী হয়।
    ৪. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমগুলো বিভিন্ন ইংরেজি অক্ষরের মতো রূপ ধারণ করে, যথা—মেটাসেন্ট্রিক (V-আকৃতির), সাব-মেটাসেন্ট্রিক (L-আকৃতির), অ্যাক্রোসেন্ট্রিক (J-আকৃতির) এবং টেলোসেন্ট্রিক (I-আকৃতির)।
    ৫. অ্যানাফেজের শেষভাগে অপত্য ক্রোমোজোমসমূহ স্পিন্ডল যন্ত্রের বিপরীত মেরুদ্বয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

    [অ্যানাফেজ পর্যায়ের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে: মেরু, স্পিন্ডল তন্তু, ট্র্যাকশন তন্তু এবং বিপরীত মেরুমুখী V, L, J, I আকৃতির অপত্য ক্রোমোজোম প্রদর্শন করে।]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ‘L’ চিত্রটি মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ এর প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে সংঘটিত ‘ক্রসিং ওভার’ (Crossing Over) প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। জীবজগতের পরিবর্তন এবং বিবর্তনে ক্রসিং ওভারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জিনগত পুনর্বিন্যাস (Genetic Recombination): ক্রসিং ওভারের ফলে দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে। এর ফলে পূর্ববর্তী জিনের বিন্যাস ভেঙে গিয়ে ক্রোমোজোমে জিনের নতুন বিন্যাস বা রিকম্বিনেশন সৃষ্টি হয়।

    ২. বৈশিষ্ট্যের নতুনত্ব ও প্রকরণ সৃষ্টি (Variation): জিন বিনিময়ের কারণে সৃষ্ট গ্যামেটগুলোতে নতুন বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটে। এই নতুন বৈশিষ্ট্যের কারণে একই পিতামাতার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তারা পরস্পরের চেয়ে ভিন্ন হয়। এর মাধ্যমে প্রজাতিতে নতুন প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশনের উদ্ভব ঘটে।

    ৩. পরিবেশের সাথে অভিযোজন (Adaptation): ক্রসিং ওভারের ফলে সৃষ্ট নতুন বৈশিষ্ট্য জীবের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পরিবর্তিত পরিবেশের প্রতিকূলতায় নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব টিকে থাকার বাড়তি সুবিধা পায়।

    ৪. জৈব বিবর্তন (Evolution): বিবর্তনের প্রধান কাঁচামাল হলো প্রকরণ বা জিনগত বৈচিত্র্য। ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে প্রজন্মান্তরে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য ও প্রকরণ সঞ্চিত হতে থাকে। কালক্রমে এই পরিবর্তনের পুঞ্জীভবন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উৎপত্তি (Speciation) ঘটে, যা বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

    সুতরাং, উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ক্রসিং ওভার (চিত্র L) সরাসরি জীবজগতে বৈচিত্র্য, প্রকরণ ও অভিযোজনের মাধ্যমে ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটিয়ে বিবর্তন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন