বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
1.
মাদকাসক্তি ও যুবসমাজ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাদকাসক্তি ও যুবসমাজ
ভূমিকা:
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ ও যুবসমাজের ওপর। কিন্তু বর্তমানে এই যুবসমাজ একটি মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত, যার নাম মাদকাসক্তি। মাদকের ভয়াল থাবা আজ তরুণদের মেধা, মনন, নৈতিকতা এবং শারীরিক সক্ষমতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা একটি জাতির জন্য অশনিসংকেত।
মাদকাসক্তি কী:
মাদকাসক্তি হলো কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক দ্রব্য বা ড্রাগসের প্রতি এমন এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা, যা ব্যক্তি গ্রহণ না করে থাকতে পারে না। সাধারণত হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, আফিম, কোকেন প্রভৃতি ক্ষতিকর উপাদানের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তিকেই মাদকাসক্তি বলা হয়।
যুবসমাজের মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ:
যুবসমাজের মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পেছনে নানা সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:
১. বেকারত্ব ও হতাশা: কর্মসংস্থানের অভাব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের মাঝে হতাশা তৈরি করে, যা কাটিয়ে ওঠার ভ্রান্ত আশায় অনেকে মাদকে ঝুঁকে পড়ে।
২. অসৎ সঙ্গ: বন্ধুদের কুপ্ররোচনায় কৌতূহলবশত অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে তা আসক্তিতে রূপ নেয়।
৩. পারিবারিক অশান্তি ও মূল্যবোধের অভাব: পরিবারে কলহ, অভিভাবকদের উদাসীনতা ও যথাযথ নৈতিক শিক্ষার অভাবে সন্তানরা বিপথগামী হয়।
৪. মাদকের সহজলভ্যতা: অবৈধ চোরাচালান ও সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের ফলে এটি সহজে হাতের নাগালে পাওয়া যায়।
মাদকাসক্তির কুফল:
মাদকাসক্তি একজন মানুষকে শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। এটি ফুসফুস, লিভার ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি করে এবং মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাই, খুনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণের উপায়:
মাদকাসক্তি রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য:
১. পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
২. মাদকের বিস্তার ও চোরাচালান রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
৩. যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।
৪. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করতে হবে।
৫. আসক্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
উপসংহার:
যুবসমাজকে রক্ষা করা মানেই রাষ্ট্র ও জাতিকে রক্ষা করা। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও পারিবারিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যুবসমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে তাদের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও