সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রফিক স্যার ক্লাসে পড়াচ্ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের কারণে পরিবর্তিত নগর সমাজে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হলে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে সমাজকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণের সূচনা হয়। এই ধারাবাহিকতায় পঞ্চাশের দশকে একজন মনীষীর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে পড়া লেখার সূত্রপাত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ পুনর্গঠন ও সমাজ হতে দরিদ্র কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন এনজিও কার্যক্রম এ বিষয়ের গবেষণাকে সমৃদ্ধ করেছে। সবশেষে স্যার শিক্ষার্থীদের বললেন যে, সমাজের মানুষের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনকে বোঝার জন্য এ বিষয়ের গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
- ক)(1)
অর্থ শাস্ত্র কী?
- খ)(2)
আইন-ই-আকবরীর মৌলিক ধারণা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বর্ণনায় বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান বিকাশধারার সাথে সম্পর্কিত কোন মনীষীর ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রফিক স্যারের আলোচনা সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্বের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থশাস্ত্র হলো প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ কৌটিল্য (চাণক্য) রচিত রাষ্ট্রশাসন, অর্থনীতি ও সামরিক কৌশল সম্পর্কিত একটি বিখ্যাত সংস্কৃত গ্রন্থ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আইন-ই-আকবরী' হলো মোঘল সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল রচিত 'আকবরনামা' গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড, যা আকবরের শাসনব্যবস্থা ও তৎকালীন সমাজের একটি বিস্তারিত প্রশাসনিক দলিল।
এর মৌলিক ধারণা হলো সম্রাট আকবরের সাম্রাজ্যের প্রশাসন পরিচালনা, রাজস্ব ব্যবস্থা, সামরিক ও বিচার ব্যবস্থা এবং তৎকালীন ভারতের সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবস্থার বিশদ চিত্র তুলে ধরা। গ্রন্থটিতে পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমে তৎকালীন সমাজকাঠামো ও জীবনযাত্রার বাস্তব বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বর্ণনায় বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান বিকাশধারার সাথে সম্পর্কিত পথিকৃৎ মনীষী অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিম-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞান চর্চা ও বিকাশে অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র একটি বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠা ঘটে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'পঞ্চাশের দশকে একজন মনীষীর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে পড়া লেখার সূত্রপাত হয়।' এ তথ্যটি ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নাজমুল করিমের নেতৃত্বে সমাজবিজ্ঞান চালুর ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই উদ্দীপকের মনীষী হলেন অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রফিক স্যারের বক্তব্য সমাজবিজ্ঞান পাঠ ও গবেষণার অপরিহার্য গুরুত্বকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে।
সমাজবিজ্ঞান হলো মানবসমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, দল ও প্রতিষ্ঠানসমূহের বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক অনুধ্যান। উদ্দীপকে রফিক স্যার উল্লেখ করেছেন যে শিল্প বিপ্লবের ফলে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়া এবং পরিবর্তিত সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সমাজকে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সূচনা হয়েছিল। এছাড়া স্বাধীনতা-পরবর্তী পুনর্গঠন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানুষের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনধারা বোঝার ক্ষেত্রেও সমাজবিজ্ঞানের গবেষণা আবশ্যক।
সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে আমরা সমাজের উদ্ভব, ক্রমবিকাশ, শ্রেণিভেদ, সামাজিক সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধানের পথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাই। দ্রুত পরিবর্তনশীল সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা, সঠিক নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর সামাজিক পরিকল্পনা গ্রহণে সমাজতাত্ত্বিক জ্ঞান অপরিহার্য।
অতএব, মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবন ও সামাজিক বাস্তবতাকে সামগ্রিকভাবে অনুধাবন করার জন্য উদ্দীপকে বর্ণিত রফিক স্যারের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক মূল্যায়নটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও