‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাস হয়?

    (1)
  2. খ)

    কর্তব্য কীভাবে অধিকার নিশ্চিত করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে “?” স্থানে যে অধিকারের ইঙ্গিত করা হয়েছে তার শ্রেণি বিন্যাস কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে উক্ত অধিকারের কোনো বিকল্প নাই — মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক ও নির্ভরশীল; একজনের অধিকার অন্যজনের কর্তব্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সমাজে একজন নাগরিক তখনই তার অধিকার নির্বিঘ্নে ভোগ করতে পারেন, যখন অন্যরা তা সম্মান করার কর্তব্য পালন করেন। উদাহরণস্বরূপ, আমার পথচলার অধিকার নিশ্চিত হয় যদি অন্য সবাই রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার কর্তব্য পালন করেন। এভাবে প্রত্যেকের কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই অধিকার নিশ্চিত ও সংরক্ষিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অধিকারের দুটি প্রধান শাখার একটি 'নৈতিক অধিকার' দেখানো হয়েছে, সুতরাং '?' চিহ্নিত স্থানে 'আইনগত অধিকার' (Legal Rights)-এর ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    আইনগত অধিকার বলতে রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত অধিকারসমূহকে বোঝায়। এ অধিকারকে প্রধানত নিম্নোক্ত শ্রেণিতে বিন্যাস করা যায়:
    ১. সামাজিক অধিকার: সমাজে সুন্দর ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার; যেমন—জীবনের নিরাপত্তা, চলাফেরার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষা লাভের অধিকার ইত্যাদি।
    ২. রাজনৈতিক অধিকার: রাষ্ট্রীয় বা শাসনকাজে অংশগ্রহণের অধিকার; যেমন—ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার ইত্যাদি।
    ৩. অর্থনৈতিক অধিকার: জীবিকা নির্বাহ ও আর্থিক নিরাপত্তা লাভের অধিকার; যেমন—কাজ করার অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার, বিশ্রাম ও অবসরের অধিকার, অবকাশ যাপন ইত্যাদি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত অধিকারটি হলো 'আইনগত অধিকার'। ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের সার্বিক বিকাশ ও পরিপূর্ণ আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে আইনগত অধিকারের কোনো বিকল্প নেই—উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    আইনগত অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও বাস্তবায়িত হয়। রাষ্ট্র আইনের মাধ্যমে ব্যক্তির জান-মাল ও মর্যাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আইনগত অধিকারের অনুপস্থিতিতে সমাজে 'জোর যার মুলুক তার' পরিস্থিতি তৈরি হতো, যেখানে দুর্বলরা সবলদের দ্বারা নির্যাতিত হতো এবং ব্যক্তির নিজস্ব প্রতিভা ও সম্ভাবনার বিকাশ ব্যাহত হতো।

    আইনগত অধিকারের মধ্যে সামাজিক অধিকার মানুষের মৌলিক মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটায় এবং চিন্তা ও শিক্ষার সুযোগ দেয়। রাজনৈতিক অধিকার নাগরিককে সচেতন করে তোলে এবং রাষ্ট্রের পরিচালনায় অংশীদারিত্ব দিয়ে দায়িত্ববোধ ও আত্মমর্যাদা জাগ্রত করে। আবার অর্থনৈতিক অধিকার ব্যক্তির মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং কাজের নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে নিশ্চিন্তে মেধা ও মননচর্চায় নিয়োজিত হতে সাহায্য করে।

    সুতরাং, কেবল নৈতিক অধিকারের ওপর নির্ভর করে আধুনিক সমাজে একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রপ্রদত্ত ও সংরক্ষিত আইনগত অধিকার ছাড়া মানুষের সহজাত গুণাবলির উৎকর্ষ ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ অসম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন