অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে কৃষির উপখাত শস্যসবজি, পশুসম্পদ, বনজসম্পদ ও মৎস্য সম্পদের অবদানের হার (%) যথাক্রমে ৭.৯২, ১.৬০, ১.৬৬ এবং ৩.৬১। জিডিপিতে কৃষির উপখাতের অবদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কৃষিঋণ বিতরণ, কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদান, কৃষিবীজ সহায়তা, কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণসহ নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
কৃষি কাঠামো কী?
- খ)(2)
কৃষিতে উন্নত বীজের ব্যবহার কর্মসংস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
- গ)(3)
২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির উপখাতসমূহের অবদান লেখচিত্রের মাধ্যমে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর সুফল আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের কৃষিব্যবস্থা যেসব সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত উপাদানের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক রূপকে কৃষি কাঠামো বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিতে উন্নত ও উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজের ব্যবহার কর্মসংস্থানকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। উন্নত বীজের ফলন বেশি হওয়ায় এর জন্য জমি প্রস্তুত, নিবিড় পরিচর্যা, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ প্রদান এবং ফসল কাটা, মাড়াই ও পরিবহনে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ফলে কৃষিক্ষেত্রে শ্রমের চাহিদা বাড়ে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা কৃষি খাতের বেকারত্ব ও ছদ্মবেশী বেকারত্ব হ্রাস করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির উপখাতসমূহের অবদানের হার নিম্নরূপ:
- শস্য ও সবজি: ৭.৯২%
- পশুসম্পদ: ১.৬০%
- বনজসম্পদ: ১.৬৬%
- মৎস্য সম্পদ: ৩.৬১%
উক্ত তথ্যকে একটি স্তম্ভচিত্র বা দণ্ডচিত্রের (Bar Chart) মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়:
[লেখচিত্র অঙ্কনের বিবরণ]:
১. অনুভূমিক অক্ষ বা X-অক্ষে কৃষির ৪টি উপখাত (শস্য ও সবজি, পশুসম্পদ, বনজসম্পদ, মৎস্য সম্পদ) স্থাপন করি।
২. উলম্ব অক্ষ বা Y-অক্ষে জিডিপিতে অবদানের শতকরা হার (০% থেকে ৮% পর্যন্ত স্কেল ধরে) স্থাপন করি।
৩. উপখাতগুলোর মান অনুযায়ী দণ্ড অঙ্কন করি:- 'শস্য ও সবজি' উপখাতের জন্য ৭.৯২ একক উচ্চতার একটি দণ্ড।
- 'পশুসম্পদ' উপখাতের জন্য ১.৬০ একক উচ্চতার দণ্ড।
- 'বনজসম্পদ' উপখাতের জন্য ১.৬৬ একক উচ্চতার দণ্ড।
- 'মৎস্য সম্পদ' উপখাতের জন্য ৩.৬১ একক উচ্চতার দণ্ড।
উক্ত লেখচিত্র থেকে স্পষ্ট দেখা যায় যে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে কৃষির উপখাতগুলোর মধ্যে 'শস্য ও সবজি' উপখাতের অবদান ছিল সর্বাধিক (৭.৯২%) এবং 'পশুসম্পদ' উপখাতের অবদান ছিল সর্বনিম্ন (১.৬০%)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষিখাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো—যেমন কৃষিঋণ বিতরণ, কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদান, কৃষিবীজ সহায়তা এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ—কৃষি উৎপাদন ও জাতীয় অর্থনীতিতে বহুমুখী সুফল বয়ে এনেছে। নিচে পদক্ষেপগুলোর সুফলসমূহ আলোচনা করা হলো:
১. উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ও উন্নত কৃষিবীজ বিতরণের ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমেছে এবং উচ্চফলনশীল জাত চাষের মাধ্যমে সামগ্রিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
২. ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা: কৃষিঋণ বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড চালুর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা সহজে এবং স্বল্প সুদে ঋণ ও সরাসরি প্রণোদনা পেতে সক্ষম হয়েছে। এতে তারা মধ্যস্বত্বভোগী ও মহাজনদের শোষণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
৩. আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার: উপকরণ সহায়তা ও আধুনিক বীজের সহজলভ্যতার ফলে সনাতন পদ্ধতির বদলে যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
৪. আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন: ফসলের ভালো ফলন ও সরকারের সহযোগিতার ফলে গ্রামীণ কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়ে জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
অতএব, সরকারের এসব সুপরিকল্পিত ও কৃষকবান্ধব পদক্ষেপ কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জিডিপিতে কৃষিখাতের সার্বিক অবস্থানকে টেকসই ও সুদৃঢ় করতে কার্যকর সুফল এনে দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও